খালেদাকে বিদেশ নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ১১ আইনজীবীর ফের আবেদন

নজর২৪, ঢাকা- সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল বা স্থগিত করে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে রাষ্ট্রপতি বরাবর করা আবেদন নিষ্পত্তি করতে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবী। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরামর্শক্রমে মানবিক দিক বিবেচনায় নিষ্পত্তির জন্য এ আবেদন করা হয়েছে।

 

সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবীর পক্ষে এডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ ও এডভোকেট এসএম জুলফিকার আলী জুনু এ আবেদন পাঠিয়েছেন।

 

শুক্রবার আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জানান, গত ২৩ নভেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির বরাবরে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য বৃহস্পতিবার আবারো একটি আবেদন করা হয়েছে।

 

আবেদনে বলা হয়েছে, মহামান্য রাষ্ট্রপতির আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক, সংবিধান আপনাকে এই ক্ষমতা দিয়েছে। অতএব রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল/স্থগিত করার এখতিয়ার সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপনার এখতিয়ার।

 

তাই সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল/স্থগিতপূর্বক তার জীবন সুরক্ষা অধিকারের সাংবিধানিক সুযোগ দিতে সুপ্রিম কোর্টের ১১ আইনজীবী বিগত গত ২৩ নভেম্বর তারিখের আপনার নিকট আবেদনক্রমে অনুরোধ করেছিলাম।

 

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনার নিকট আমাদের আকুল আবেদন, যেহেতু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারাত্মক অসুস্থ এবং জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন। অতএব বেগম খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষার্থে সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিগত ২৩ নভেম্বর তারিখের ১১ আইনজীবী কর্তৃক প্রেরিত আবেদনপত্রটি অনতিবিলম্বে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিষ্পত্তি করার জন্য বিশেষভাবে মর্জি হয়। জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি অতীব জরুরি।

 

প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন।

 

তবে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার চিকিৎসার দাবি করছে বিএনপি। কিন্তু আইনের বাইরে গিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *