বাঁধনের ‘রেহানা মরিয়ম নূর’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রতিমন্ত্রী পলক

badhon n234

বিনোদন ডেস্ক- ভালো-মন্দ নানান ঘটনা প্রবাহের পর ১২ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত আলোচিত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’।

 

কান উৎসবে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস (অ্যাপসা) দ্বিতীয় সেরা সিনেমা নির্বাচিত হয় এটি এবং সেরা অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পান আজমেরী হক বাঁধন। এ ছাড়া হংকং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালে জিতেছে নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড। সিনেমাটির ব্যাপক সুনামের পাশাপাশি সমালোচনাও আছে।

 

এদিকে আলোচিত এ সিনেমাটি অবশেষে হলে গিয়ে দেখেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রোববার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমাটি উপভোগ করেন তিনি। এসময় অভিনেত্রী বাঁধনসহ সিনেমার কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সিনেমাটি দেখার পর সমালোচকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দেখে অনেকের ফেসবুকে মন্তব্য দেখেছি তারা বলছে রেহানা চরিত্রটি স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক! আমি মনে করি রেহানা আসলে অস্বাভাবিক না! আসলে সমাজটা অস্বাভাবিক রেহানা সেই সমাজের অসঙ্গতির বিরুদ্ধে একটা সাহসী কণ্ঠস্বর!

 

তিনি বলেন, অন্যায়ের সাথে আপোষ করবো কেন? এই যে অন্যের বিরুদ্ধে রেহানার যে পদক্ষেপ এটাই স্বাভাবিক। আর সমাজের যে অসঙ্গতি সেইটাই অস্বাভাবিক! এই জায়গা থেকে আমাদের সকলের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

 

বাঁধনের আলোচিত এ সিনেমার প্রশংসা করে পলক বলেন, “রেহানা মরিয়ম নুর” এই চলচ্চিত্রের মধ্যে আমাদের পরিবারের ভেতরে নারী পুরুষের মধ্যে যে বৈষম্য, সংসারের মধ্যে যে বৈষম্য তা ফুটে উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের শৈশব থেকে যে শিক্ষক, অভিভাবক প্রতিবেশী তাদের কাছ থেকে যে শিক্ষাটা পাওয়ার কথা সেই নৈতিক শিক্ষাটা না পেয়ে অনৈতিক শিক্ষা পাচ্ছে আমাদের সন্তানেরা সেটা তুলে ধরা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সমাজ থেকে সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে যে যা দেখে শোনে সেখান থেকে সে ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। আমরা যদি দৃষ্টিভঙ্গি সত্যি পরিবর্তন করতে চাই তাহলে আমাদের পরিবার প্রতিষ্ঠান সমাজ থেকে বৈষম্য দুর করার জন্য সত্য বলার অন্যায়ের বিরূদ্ধে সত্য বলার সাহস করতে হবে।

 

মন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা সেই অসম্প্রদায়িক প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণে আমাদের ‘রেহানা মরিয়ম নুর’ এর মত আরো অনেক চলচ্চিত্র আসবে এবং আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *