নজর২৪ ডেস্ক- যুক্তরাষ্ট্র নিজেই গণতন্ত্র নিয়ে ঝামেলায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডাকা গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রী এভাবেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ভার্চ্যুয়াল ‘সামিট ফর ডেমোক্রেসি’তে দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ আমন্ত্রণ পেলেও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম নেই বাইডেনের আমন্ত্রণ পাওয়া রাষ্ট্রগুলোর তালিকায়। এ নিয়ে সমালোচকরা দেশ-বিদেশে প্রশ্ন তুলছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড পিস ইন দ্য কনটেক্সট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনার শেষে প্রশ্নটি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
জবাবে মন্ত্রী মোমেন বলেন, যেসব দেশ গণতন্ত্রের দিক থেকে দুর্বল হয়তো তাদের সম্মেলনে প্রথম ধাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দু’টি পর্বে সম্মেলন হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতে প্রথমে তারা এমন দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে যারা গণতান্ত্রিক দিক থেকে খুবই দুর্বল।
দাওয়াত দেয়া না দেয়ার বিষয়টি একান্তই হোস্ট্রের বিষয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের কিছুই করার নেই, এটা তাদের দায়-দায়িত্ব। গণতন্ত্র সম্মেলন নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই প্রশ্ন ওঠেছে এমন পাল্টা অভিযোগ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোমেন বলেন, আমেরিকায় আড়াই’শ বছরের পুরোনো গণতন্ত্র। কিন্তু ক’দিন আগে আমরা কি অবস্থা দেখলাম! তারা যে গণতন্ত্র সম্মেলন করছে এটা নিয়ে আমেরিকাতেই প্রশ্ন রয়েছে।
বাংলাদেশ আমন্ত্রণ না পেলেও দক্ষিণ এশিয়া থেকে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কী প্যারামিটারে দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপার।
গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা দুই ধাপে এই সম্মেলন করবে। এ বছর এবং আগামী বছর। প্রথম ধাপে কয়েকটি দেশ যোগ দেবে। আমরা হয়তো দ্বিতীয় পর্বে আমন্ত্রণ পাব।’
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে স্থিতিশীল গণতন্ত্র বিরাজ করছে। এটি অত্যন্ত স্বচ্ছ গণতন্ত্র। জনগণ সুষ্ঠু ও মুক্তভাবে ভোট দিতে পারছে। আমাদের দেশে সব মানুষ ভোট দিতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে এ কে মোমেন বলেন, ‘আমাদের গণতন্ত্র কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। আমরা অন্যের পরামর্শ নিয়ে চলব না। আমরা অন্যের পরামর্শে কাজ করি না। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করি। আমরা প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের উন্নয়নের চেষ্টা করছি। যুক্তরাষ্ট্র বরং তার ২৫০ বছরের পুরোনো গণতন্ত্র নিয়ে সমস্যায় আছে। কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটেছে, তা আপনারা দেখেছেন।’
