‘সারাদিন লোকের ভিড়ে এই বাড়ি গমগম করতো, এখন কারও দেখা নেই’

নজর২৪ ডেস্ক- গত ১৯ নভেম্বরের আগে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশন মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীদের উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকতো গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ হাইওয়ে রোডের পাশে মেয়র হাউজে। লোকের ভিড়ে গমগম থাকা মেয়রের বাড়িটিতে ২০ নভেম্বর সকাল থেকে চলছে সুনসান নীরবতা।

 

 

রবিবার (২১ নভেম্বর) বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও দেখা মেলেনি এক ডজন মানুষেরও।

 

বাড়ির মূল ফটকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীও এখন আর নেই। মেয়র হিসেবে পাওয়া প্রটোকলও দেখা যায়নি বাড়ির ভেতরে। যে বাড়িতে প্রায় ৩ বছর ধরে মানুষের ভিড় সামলাতে নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হতো, বহিষ্কার হওয়ার দুই দিনের মাথায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ও মানুষের ভিড়, কিছুরই অস্তিত্ব মেলেনি। ক্ষমতাধর জাহাঙ্গীরের ওই বাড়িটি এখন সাধারণ একটি বাড়ির মতোই রূপ নিয়েছে।

 

বাড়ির সামনে দেখা হয় আরিফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি নিজেকে জাহাঙ্গীরের পরিচিত বলে দাবি করেন। আরিফ বলেন, ৮ বছরের সম্পর্ক মেয়রের সঙ্গে। এমন কোনও দিন ছিল না যেদিন হাজার খানেক মানুষের ভিড় না দেখেছি। গতকাল থেকে লোক কমতে শুরু করেছে, আজকে তো কেনও মানুষই নাই এ বাড়িতে। তিনি বলেন, মেয়র বেকায়দায় পড়েছে তাই লোকেরাও ভুলে গেছে। আরিফের দাবি, এর আগে বাড়িতে ঢুকতে বেগ পেতে হতো। মানুষ আর মানুষ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি এখানে।

 

আরিফ বলেন, সাধারণ মানুষ ও জাহাঙ্গীর অনুসারীরা মনে করছেন, এখানে এলে রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাদেরও মামলা খেতে হতে পারে। সেই আতঙ্কে জাহাঙ্গীর অনুসারীরাও রয়েছেন।

 

জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভেতরে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের খামার দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা একজন এই প্রতিবেদককে বলেন, মেয়র গত দুই দিন বাড়ি থেকে এক মুহূর্তের জন্যও বের হননি। তিনি জানান, আমরা সবাই মামলা আতঙ্কে আছি। লোকজনের মুখে শুনি মেয়র স্যারের নামে মামলা হবে। সারা দিন শত শত লোকের ভিড়ে এই বাড়ি গমগম করতো। এখন কারও দেখা নেই।

 

এদিকে বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরে থাকা সিটি করপোরেশনের গাড়ি ও সব মালামাল সিটি করপোরেশন ভবনে স্থানান্তর করতে দেখা গেছে দিনভর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের এক ঠিকাদার বলেন, আশপাশে কাজ চলতো বিধায় সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গাড়ি ও যন্ত্রাদি মেয়রের বাসার বাউন্ডারিতে রাখা হতো। দুর্নীতি দমন কমিশনের কেউ হঠাৎ বাড়িতে অভিযান চালাতে পারে সন্দেহে মালামালগুলো সিটি করপোরেশনে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

গত ২২ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আলোচনার রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে শোনা যায়। এরপর আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামে। ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। এতে তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র তার ব্যাখ্যা দেন।

 

এদিকে গত শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জাহাঙ্গীরের দলীয় সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 

বৈঠক শেষে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *