নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া, না পাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন দলটির সংসদ সদস্যরা।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ মানববন্ধন করেন। এতে বক্তব্য রাখেন- হারুনুর রশিদ এমপি, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি, মোশাররফ হোসেন এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি। এ ছাড়াও অংশ নেন উখিল আবদুস সাত্তার এমপি, আমিনুল ইসলাম।
মানববন্ধনে বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ বলেন, এখনও সময় আছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠান। অন্যথায় উনার কিছু হলে এর দায় শুধু বর্তমান সরকারকে নিতে হবে তা নয়, আওয়ামী লীগের ইতিহাসও পাল্টে যাবে।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে যে ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন, সত্যি কথা বলতে কী, আমরা আশা করি না যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ম্যাডামকে বিদেশে যেতে অনুমতি দেবেন। তাহলে কার কাছে আশা করব, তার ওপরে তো একজনই আছেন। আমরা রাষ্ট্রপতিকে বলতে চাই, আপনার ক্ষমতাবলে ম্যাডামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। সংবিধানে আপনাকে সেই ক্ষমতা দেওয়া আছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পাওয়া, না পাওয়ার বিষয়টি। খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে সব বিরোধী দল ও মানুষের মধ্যে যে উদ্যম সৃষ্টি হবে তা দমন করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছেন।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করেছে। লক্ষ্মীপুরের খুনের আসামিদের সাজা মওকুফ করেছে সরকার। নাটোরের কামাল হত্যার আসামিদের সাজা মওকুফ করেছে। আজ দেশে আইনের শাসন থাকলে খালেদা জিয়ার জামিন হতো।
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া আহ্বান জানিয়ে হারুন বলেন, এর ব্যতিক্রম কোনো কিছুই আমরা মানব না, মানব না। খালেদা জিয়ার মুক্তি না দিলে আমরা (বিএনপি) সংসদ সদস্যরা থাকব কি না, তা চিন্তাভাবনা করব।
মানববন্ধনে বিএনপির সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, খালেদা জিয়া হেঁটে কারাগারে গিয়েছেন। গত তিন বছর তিনি সরকারের হেফাজতে ছিলেন। আওয়ামী লীগের হেফাজতে ছিলেন। তিনি নিজের হেফাজতে ছিলেন না। গত তিন বছরে সরকার তাকে সঠিক চিকিৎসা দেয়নি। আজ দেশনেত্রীর এ অবস্থার জন্য সরকারকে দায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সামান্য হাঁচি-কাশি হলে রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য আমেরিকা, জার্মানিতে চলে যান। আর আমাদের সরকার বলে উনার (খালেদা জিয়া) বেস্ট চিকিৎসা নাকি বাংলাদেশে হচ্ছে। যদি বাংলাদেশে বেস্ট চিকিৎসা হতো তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাদের কেন ভারতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?
