দলের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছি: মেয়র জাহাঙ্গীর

নজর২৪, ঢাকা- দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তবে বলেছেন, পদ না থাকলেও তিনি সব সময় আওয়ামী লীগকে ধারণ করেছিলেন, এখনও তা ধারণ করেন।

 

ঘরোয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধুকে ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের রেকর্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গাজীপুরে ক্ষমতাসীন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজনকে আওয়ামী লীগ ছেঁটে ফেলার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় শুক্রবার কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে।

 

গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আসার পরপর মেয়রবিরোধীদের উল্লাস শুরু হয় রাজধানী লাগোয়া জনপদটিতে। বিপরীত দিকে মেয়র শিবিরে সুনসান নীরবতা।

 

দলীয় সিদ্ধান্ত আসার পরপর মেয়রের প্রতিক্রিয়া পাওয়াই যাচ্ছিল না। তবে রাত সাড়ে আটটার দিকে তার নাগাল পাওয়া যায় ফোনে।

 

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। প্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত। দলীয় প্রধান ও দল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেটা আমি মাথা পেতে নিয়েছি। আমার অস্থিমজ্জাজুড়েই আওয়ামী লীগ।’

 

মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ছোটবেলা থেকেই ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। তাঁকে বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো কুটূক্তি করিনি। সব ষড়যন্ত্র হয়েছে। আগেও বলেছি নেত্রীর আমার অভিভাবক। তিনি ও দল যে সিদ্ধান্ত নেয়, মেনে নিব। তবে দল থেকে আমাকে সিদ্ধান্তের ব্যাপারে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।’

 

গত ২২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গির আলমের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

 

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়েও নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

 

তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

 

তীব্র সমালোচনার মুখে পরে আরেকটি ভিডিও বার্তায় মেয়র দাবি করেন, ফেসবুকের ভিডিওটি সুপার এডিট করে প্রচার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *