বিনোদন ডেস্ক- ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর সব ভক্ত-অনুরাগীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চু। হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার চলে যাওয়ার খবর মেনে নিতে সবারই কষ্ট হয়। প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুর খবরে সেদিন আকাশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
এবার ভক্তদের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে তার পরিবার। যা বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল। তাই এলআরবির টি-শার্ট বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এলআরবির পেজ থেকে জানানো হয়, ‘কিংবদন্তির দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অবসর মেলেনি কখনো। কখনো এক শহর থেকে আরেক শহর, এক মঞ্চ ছেড়ে আরেক মঞ্চ অথবা কখনো এক দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশের সীমানায় ছুটে বেড়িয়েছেন পুরোটা জীবন জুড়ে। আইয়ুব বাচ্চু শেষ সময় গুলিতে তার ভক্তদের সাথে কাটানো সময়গুলি উপভোগ করতেন। ভক্তদের আবদার রাখার তাগিদেই শেষ দিকে তার নিজের তত্ত্বাবধানে এবি কিচেনের বেশ কিছু ফ্যান কালেটিবলস টিশার্ট তৈরি করেছিলেন।
আইয়ুব বাচ্চু তার নিজের হাতেই এই টিশার্টগুলির কিছু অংশ শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে তার কাছের বন্ধু ও ভক্তদের উপহার দিয়েছেন। এমনকি কিংবদন্তি ও তার প্রাক্তন ব্যান্ড মেম্বাররাও এই টিশার্টগুলি পরে অনেক কনসার্ট ও স্টুডিও শোতে উপস্থিত হয়েছেন। টিশার্টগুলি এত বছর ধরে অন্যান্য স্মৃতি স্মারকের সঙ্গে সংরক্ষিত ছিল আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের কাছে। এবি কিচেন সম্প্রতি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই টিশার্টগুলি ভক্ত অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত করতে।’
তারা জানায়, টিশার্টগুলি ‘বাংলার গঞ্জি টি অব বেঙ্গল’ নামের অফিশিয়াল অনলাইনে স্টোরে পাওয়া যাবে। এই বিক্রয়লব্ধ অর্থের পুরোটাই আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি স্বারক সংরক্ষণের কাজে ব্যয় হবে।
এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর স্ত্রী চন্দনা আক্তার জানান, এবি কিচেনে ছিল আইয়ুব বাচ্চুর ৪০টি গিটার। যেগুলো বিশ্বের নানা স্থান থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এই গিটার লিজেন্ড। ইচ্ছে ছিল এগুলো দিয়ে জাদুঘর করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি গিটারগুলো ওপেন করে দিতে। জাদুঘর করতে। আইয়ুব বাচ্চুও এটাই চাইতেন। তবে এখানে প্রচুর খরচ আছে। যেতে হবে অনেক জায়গায়। দেখি কতটা পেতে পারি! সরকারি বা ব্যক্তিগত উদ্যোগ হোক- অনেকেরই এখানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে।’
উল্লেখ্য, একাধারে গায়ক, লিড গিটারিস্ট, গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এই শিরোমণি তার প্রথম গান প্রকাশ করেন ‘হারানো বিকেলের গল্প’ শিরোনামে। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।
আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে।
১৯৭৮ সালে তিনি যোগ দেন ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে। এরপর ১৯৮০ সালে ‘সোলস’-এর সঙ্গে শুরু হয় তার পথচলা। প্রায় এক দশক এই ব্যান্ডের সঙ্গেই ছিলেন তিনি।
‘সোলস’ ছাড়ার পর ১৯৯১ সালে তিনি গঠন করেন ব্যান্ড ‘এলআরবি’। এলআরবির প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে।
আইয়ুব বাচ্চুর একক অ্যালবাম
ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কি (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩), পথের গান (২০০৪), ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬), জীবন (২০০৬), সাউন্ড অব সাইলেন্স (২০০৭), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯) এবং জীবনের গল্প (২০১৫)।
এলআরবির অ্যালবাম
এলআরবি (১৯৯২), সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারি মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬), আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮) এবং যুদ্ধ (২০১২)।
আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় কয়েকটি গান
১. চলো বদলে যাই
২. হাসতে দেখো গাইতে দেখো
৩. কেউ সুখী নয়
৪. ফেরারি এই মনটা আমার
৫. একদিন ঘুম ভাঙা শহরে
৬. বাংলাদেশ
৭. কষ্ট পেতে ভালোবাসি
৮. এখন অনেক রাত
৯. হকার
১০. এই রুপালি গিটার ফেলে
১১. গতকাল রাতে
১২. সেই তারা ভরা রাতে
১৩. মেয়ে তুমি কি দুঃখ চেনো
১৪. সাড়ে তিন হাত মাটি
১৫. উড়াল দেবো আকাশে
১৬. কতদিন দেখেনি দু’চোখ
১৭. মনে আছে নাকি নাই
১৮. কার কাছে যাব
১৯. লোকজন কমে গেছে
২০. একটাই মন যখন তখন
২১. এক আকাশের তারা তুই একা গুনিস নে
২২. মন চাইলে মন পাবে
২৪. ভাঙা মন নিয়ে তুমি আর কেঁদনা
২৫. বেলা শেষে ফিরে এসে
চলচ্চিত্রের গান
১. অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে
২. আমি তো প্রেমে পড়িনি
৩. আম্মাজান
৪. সাগরিকা বেঁচে আছি
