মেয়ে আমাকে হারতে দেখছে না, এটাই জীবনের বড় অর্জন: বাঁধন

বিনোদন ডেস্ক- ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন আজমেরী হক বাঁধন। তার আলোচিত সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ১২ নভেম্বর। সিনেমাটি দেখে দর্শকের প্রশংসাতে ভাসছে পুরো টিম। বলতে গেলে রেহানা মরিয়ম নূর নিয়ে বাঁধন এখন ভাসছেন, উড়ছেন।

আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ পরিচালিত এ সিনেমা দেখে এসে দর্শকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অবিব্যক্তি প্রকাশ করছেন। অধিকাংশই ইতিবাচক, তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা। দীর্ঘদিন পর পর্দায় নতুন এক বাঁধনকে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শক।

তবে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধনের আজকের যে সফল জীবন দেখছেন তার পেছনেও এমন অনেক গল্প রয়েছে। ‘রেহানা মরিয়ম নুর’ নিয়ে কান ঘুরে আসার পর বাঁধন মনে করছেন সেসব এখন মানুষের সামনে বলার সময় হয়েছে তার। যে গল্প থেকে সমাজের নারীরা সাহস পাবেন। পাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রাণশক্তি।

সম্প্রতি বলিউডের নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া‘ সিনেমার শুটিং করে মুম্বাই থেকে ঢাকায় ফিরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক আড্ডার আয়োজন করেছিলেন এ নায়িকা।

’রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির সহপ্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সেন্সমেকারস প্রোডাকশনের গুলশানের অফিসে সে আড্ডা হয়। আড্ডায় বেশ অকপটে ছিলেন বাঁধন। জানিয়েছেন তার জীবনের কালো এক অধ্যায়ের কথা।

সেই গল্প বলতে বাঁধনের গা শিউরে উঠলেও কণ্ঠে ছিলো দৃঢ়তা। বাঁধন বলেন, ’এসব বলতে এখন আর আমার ভয় নেই। কারণ আমি আর এখন আগের দুর্বল বাঁধন নই।’

সময়টা ২০০৫। সে সময় দুই দুই বার আ ত্ম হ ত্যার চেষ্টা করেছিলেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘সে সময় আমার সঙ্গে অনেক অবিচার হয়েছে এবং পারিবাহিকভাবে অনেক সহিং সতার শিকার হয়েছি। সে কারণেই দুইবার আ ত্মহ ত্যার চেষ্টা করেছি। তাই সব মিলিয়ে সে সময়টা আমার জন্য খুবই কঠিন একটা সময় ছিলো।’

বাঁধন যখন জীবনের এসব কালো অধ্যায়ের কথা বলছিলেন তখন তার চোখে মুখে ছিলো বিজয়ের হাসি। কঠিন পরিস্থিতি জয় করে কানের লাল গালিচা মারানো হাসি। সে জয় তাকে আজকের গল্প বলতে সহায়তা করছে, সাহস যুগিয়েছে।

বাঁধন বলেন, ‘তখন যদি আমি মরে যেতাম অনেক নিউজ হতো। বলা হতো যে, যুদ্ধ করতে করতে মরে গেলো মেয়েটি, নি র্যা তিত হতে হতে মারা গেলো। যেহেতু আমি মারা যাইনি তাই আমি মনে করি এখন জীবিত ডাইনি হয়ে গেছি।’

বাঁধন মনে করেন, তার এই মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া জীবনটা এখন সমাজের অন্য নারী, যারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি চান তাদের জন্য অনুপ্রেরণার। সাহস সঞ্চয়ের। বাঁধন বলেন, ‘আমার আশে পাশের নারীরা যারা এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা যখন আমাকে বলেন, আমি কোনো অ্যাসিভমেন পেলে এটা তাদের অর্জন বলে মনে হয়। এটা আমার কাছে অনেক ভালো লাগে এবং বড় প্রাপ্তির মনে হয়।’

তবে বাঁধনের বড় প্রাপ্তির জায়গা হচ্ছে তার মেয়ে, যে মাকে ক্রমাগত বিজয়ের হাসি হাসতে দেখছে। বাঁধনের ভাষ্য, ‘এখন যখন সবই আমাকে বলেন, বাঁধন এখন তোমার এতো এতো অ্যাচিভমেন, তুমি এতো এতা কিছু করে ফেলতেছো, তুমি কানে চলে গেছো, তুমি বলিউডের বিশাল ভরদ্বাজের কাজ করছো। তোমাকে নিয়ে এতো আলোচনা হচ্ছে, এতো বড় একটা অ্যাওয়ার্ডের জন্য নমিনেশন পেয়েছো। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে আমার মেয়ে আমাকে হেরে যেতে দেখছে না। আমি মনে করি, এটাই আমার বড় প্রাপ্তির জায়গা।’

উল্লেখ্য, বাঁধনের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ তবে তার জন্ম ঢাকায়। তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ থেকে দন্ত চিকিৎসা বিষয়ে বিডিএস পাস করেন এবং ২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার রানার আপ হন. এরপর থেকেই তিনি অভিনয় জগতে কাজ শুরু করেন। নাটকেই তাকে বেশি দেখা গেছে।

২০১০ সালে বিয়ে করেছিলেন এই লাক্স সুন্দরী। বিয়ের চার বছরের মাথায় সংসারের ইতি টানেন তিনি নিজেই। এরপর স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাসায় ওঠেন। এখন মেয়ে মিশেল আমানী সায়রাকে নিয়েই তার পৃথিবী। মেয়ে সায়রা পড়াশোনা করছে সানবিমস স্কুলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *