নজর২৪ ডেস্ক- গণমাধ্যম নিয়ে কটূক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক সাংবাদিকের মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান সাংবাদিকরা। অন্যথায় নুরকে বয়কটের ঘোষণা দেন তারা।
উল্লেখ্য, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ফেসবুক স্ট্যাটাস ও লাইভে এসে ৭১ টিভির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন। এরপর তিনি এই বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলটিকে বয়কটের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। ৭১ টেলিভিশন থেকে যে নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টকশোতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেই নম্বরটিও তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ওই নম্বরটি একাত্তর টিভির একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নম্বর।
প্রযুক্তি বিষয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনি (নুর) একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছেন, যা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণের মধ্যে পড়ে না।
এই বিষয়ে নুরুল হক নুরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে কারও ব্যক্তিগত নম্বর এভাবে শেয়ার করি উচিত হয়নি। আমি ব্লার করে দিয়েছি, কিন্তু সেটি ব্লার হয়নি৷ এটা মিসটেক হয়েছে।’
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, একাত্তর টিভির মতো একটি পক্ষপাতমূলক গণমাধ্যমের পক্ষে সাংবাদিক নেতারা কথা বলছেন। কিন্তু তারা সাংবাদিকদের অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তো তেমন সোচ্চার হন না। আমরা দেখেছি, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা নীরব। যখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার গণভবনে প্রবেশ করতে দিই না।’ তখন সাংবাদিক নেতারা সোচ্চার হন না। অথচ এসব বিষয় নিয়ে আমরাই কথা বলেছি।
তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আমরা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছি৷ সাংবাদিক নেতাদের পক্ষ থেকে যে দুঃখ প্রকাশের কথা বলা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আমি দুঃখ প্রকাশ করার মতো কিছু দেখছি না৷ কোন গণমাধ্যমকে আমি বয়কট করবো, কোনটি গ্রহণ করবো, সেটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়।
নুরুল হক নূর অবশ্য দাবি করছেন, তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে একাত্তর টেলিভিশন বর্জন করছেন, বর্জনের কোনো ডাক দেননি৷ এখন তার অনুসারীরা বর্জন করলে তার কিছু করার নেই৷ অনুসারীরা বর্জনের ডাক দিলে সেটা তাদের বিষয়৷
নূরের আরো দাবি, ‘‘একাত্তর টিভি মিথ্যা ও বাংলাদেশেরে সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থি খবর পরিবেশন করে৷ মানুষকে নিয়ে তারা বিব্রত করে৷ তারা বিকৃত করে খবর প্রকাশ করে যা দেশের জনগণের জন্য, মূল্যবোধের জন্য ক্ষতিকর৷ এজন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে একাত্তর টিভির কোনো প্রোগ্রামে অংশ নিতে চাই না৷ তাদের সমস্ত অনুষ্ঠান আমার পক্ষ থেকে আমি বর্জন করেছি৷ এই ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সবারই আছে৷”
তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার জায়গা থেকে বর্জনের ডাক দিয়েছি৷ সেক্ষেত্রে আমার ফ্যান-ফলোয়াররা আমাকে অনুসরণ করলে করতে পারে৷’’
তার দাবি, ‘‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী-ধ.র্ষ.ণে.র মামলা নিয়ে যে নিউজগুলো একাত্তর টিভি করেছে তার অ্যাঙ্গেল দেখলেই তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার হবে৷ আমাদের ধ.র্ষ.ণ.বিরোধী সমাবেশকেও তারা রাজনৈতিক সমাবেশ বলে অপপ্রচারমূলক খবর পরিবেশন করেছে৷”
