রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার- পুরো নাম আফিয়া নুসরাত বর্ষা। চিত্রনায়িকা বর্ষা হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত তিনি। ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমায় অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পা রাখেন বর্ষা। ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এ সিনেমায় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। এরপর একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমায় অভিনয় করেছেন অনন্ত-বর্ষা। পর্দার জুটি বাস্তব জীবনেও সফল জুটিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে তারা সুখী দম্পতি।
চিত্রনায়িকা বর্ষার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের গারাদহ ইউনিয়ন। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন এই নায়িকা। এবার সেই নিজ গ্রামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করছেন চিত্রনায়িকা বর্ষা।
জানা গেছে, গারাদহ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের গাঁ ঘেষে ১ বিঘা জায়গার উপর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
চিত্রনায়িকা বর্ষার পিতা মোঃ আঈনুল হক বলেন, আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে মানুষ করেছি। সে যতো বড় মাপের মানুষই হোক না কেন তার ধর্মীয় অনুভুতি প্রবল। সে প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত করে।
সে মসজিদ নির্মাণ করেছে এই নিয়তে যেনো আল্লাহপাক খুশি হন এবং তার স্বামী অনন্ত জলিল, ২ সন্তান, পিতা মাতা ও সকল আত্মীয়স্বজনকে এহকাল ও পরকালে ভালো রাখেন।
সরেজমিনে চিত্রনায়িকা বর্ষার গারাদহ গ্রামের পিত্রালয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশেই করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে একটি দৃষ্টিনন্দন ও সুদৃশ্য মসজিদের সৌন্দর্য উকি দিচ্ছে মানুষের চোখের কোনে। প্রধান ফটক ও সীমানা দেয়াল মোঘল আমলের ইসলামী অবয়বে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান ফটক ও দেয়ালের নির্মাণ কাজ শেষ এখন শুধু রং মাখানো বাকি।
প্রধান ফটকের ভেতরে প্রায় বিস্তৃত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে এবং মুল মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে সাড়ে ১২ শতাংশ জায়গার উপরে। এক তলা বিশিষ্ট এই মসজিদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে প্রায় ৫৫ ফুট উচ্চতার একটি মিনার তৈরি করা হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে ও পাশের ওজুখানায় কাজ করছেন রাজ মিস্ত্রীরা, তাদের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এই মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে কর্মরত রাজমিস্ত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
নায়িকা বর্ষার খালু মোঃ ইয়াকুব প্রামাণিক বলেন, প্রায় ১ বছর যাবৎ মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। এসময় কয়েক দফায় মসজিদের ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, এখনই সর্বমোট ব্যয় বলা সম্ভব না।
তিনি আরো জানান, মসজিদের প্রবেশ মুখের ছাদে একটি দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি লাগানো হবে। মসজিদের ভেতরে ও দেয়ালে টাইলস লাগানো হবে। মসজিদের ভেতরের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২০টি দৃষ্টিনন্দন জানালা রাখা হয়েছে। এই মসজিদে নারীদেরও নামাজের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মুসল্লীদের জন্য মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুইটি ওজুর স্থান ও দু্ইদিকেই শৌচাগার রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মসজিদটি সম্পূর্ণরুপে মুসল্লীদের নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে। এবং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্ভোধন করবেন আমার ভাগ্নী বর্ষা ও তার স্বামী চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল।
গারাদহ গ্রামের স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষার মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগটা অত্যন্ত উত্তম একটি বিষয়। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীরা এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাছাড়া দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের কাজ শেষ হলে অত্র অঞ্চলের মুসলিমদের কাছে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই বিষয়ে চিত্রনায়িকা বর্ষার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ আগামী ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের সময়ই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
জানা গেছে, শিল্পপতি-অভিনেতা অনন্ত জলিলের স্ত্রী আফিয়া নুসরাত বর্ষার শৈশব ও কৈশোর ছিলো নানা প্রতিবন্ধকতায় ভরপুর। প্রায়ই ঘরে খাবার থাকতো না। সকালের নাস্তা না খেয়েই স্কুলে গিয়েছেন। সেই কঠিন সময় ও অতীতকে ভুলে যাননি বর্ষা।
নিজের আজকের অবস্থানটাকে যেমন উপভোগ করেন তেমনি অতীতের দিনগুলোকেও এখনো স্মরণ করেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে বর্ষা তার জীবনের ফেলে আসা দিনগুলো নিয়ে বলেন, ‘আমি খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে ছিলাম। এমনও হয়েছে সকালে আনমনে স্কুলে চলে গিয়েছিলাম। আমার ঘরে খাবারও ছিল না যে আমি এটা খেয়ে যাব। হঠাৎ করে স্কুলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। তারপর আমার টিচার আমাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে ডিম দিয়ে খিচুড়ি খাইয়েছিলেন। তারপর আবার ক্লাসে আসি।’
কথাগুলো বলতে বলতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে যান বর্ষা। তার চোখের কোণায় পানি জমে যায়। নিজেকে সামলে অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘আমার ৮-১০ বছর পর্যন্ত অনেক কষ্টে দিন কেটেছে। খাবারটাও ঠিকমতো পাইনি। তারপর আলহামদুলিল্লাহ, আমার ফ্যামিলি এটাকে ওভারকাম করতে পেয়েছে।’
