সুযোগ দিলে আমরাও টিকা তৈরি করতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

pm n32n4

নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাকে ‘জনসম্পদ’ ঘোষণা দিয়ে তা বাংলাদেশে উৎপাদনে বিশ্বনেতাদের কাছে সুযোগ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বার্তা দিয়ে এসেছেন জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি বিশ্ব চাহিদাও মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বাংলাদেশ।

 

সোমবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের এক সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার প্রধান এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় আমাদের যে সাফল্য, তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি। জলবায়ু সম্মেলনে গিয়ে আমি এটাও বলে এসেছি, আমরা নিজেরা টিকা তৈরি করতে চাই। টিকা তৈরিতে যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো সরিয়ে দিতে হবে। এটি উন্মুক্ত করতে হবে।

 

টিকা জনগণের প্রাপ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো মানুষ করোনার টিকা থেকে দূরে না থাকে। আমাদের সুযোগ দিলে আমরাও টিকা উৎপাদন করবো। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। সেজন্য জমিও কিনে রেখেছি। আমরা কিন্তু উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পুরস্কার চালু করায় ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানাতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবেক প্রধান হুইপ আব্দুস শহীদ সাধারণ আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব তোলেন।

 

সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে জাতির পিতার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়কালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৭৫ এর পর আমরা কী দেখেছি? ১৯টি ক্যু হয়েছে। হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিক, বিমানবাহিনীর অফিসার ও সৈনিক এবং সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কারাগারে ফেলে রাখা হয়েছে, নির্যাতন চলেছে।

 

শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় গুলি-অস্ত্র, দুর্নীতি এটাই ছিল জননীতি। এর বাইরে একটা দেশকে যে উন্নত করা যায়, সেদিকে কোনো আন্তরিকতাই আমরা দেখিনি। আমি বাংলাদেশে আসার পর কী দেখেছি। বিজ্ঞান পড়েই না মানুষ। বিজ্ঞানের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। গবেষণা তো ছিলই না। কোনো বিশেষ বরাদ্দও ছিল না।

 

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখন আমরা পিছিয়ে নেই। আমি ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণকে। তারা বারবার আমায় ভোট দিয়েছে। সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। এক দশকের ভেতরে বাংলাদেশের পরিবর্তন সারাবিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের কাউকে বিদেশে গিয়ে কথা শুনতে হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *