আন্তর্জাতিক ডেস্ক- সম্প্রতি ইউরোপে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নেদারল্যান্ডসে আংশিক লকডাউন শুরু হয়েছে। ১০টি দেশে সম্প্রতি করোনার কারণে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুতে বলেছেন, করোনা সংক্রমণ কমাতে তিন সপ্তাহ রেস্টুরেন্ট, দোকানসহ খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্ট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
লকডাউনে স্কুল যথারীতি খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের বাইরে বের হওয়ার বিষয়েও কোনো ধরনের বিধি-নিষেধ থাকছে না।
যে কয়েকটি দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে তার একটি তালিকা তৈরি করেছে ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল। তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, গ্রিস, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া। জার্মানি, সেন্ট্রাল ইউরোপ ও ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের করোনা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে যাচ্ছে। যারা এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন নেয়নি তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
আংশিক লকডাউনের ঘোষণার পর দ্য হেগ শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন লকডাউনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার লকডাউন ঘোষণার সময় নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভব হলে ঘর থেকে অফিস করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
নেদারল্যান্ডসের জনসংখ্যার প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষকে করোনাভাইরাসের পূর্ণ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এখনও যারা টিকা পাননি তাদের খুব জরুরি দরকার ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রুট।
বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট জানিয়েছিল, ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৩৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ১৮ হাজার ৬০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ বছরের সেপ্টেম্বরে লকডাউন তুলে নিয়েছিল নেদারল্যান্ডস।
শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক সংক্রমণের গড়ের অর্ধেকের বেশি ধরা পড়েছে ইউরোপে। এ সময়ে মৃতের হারও ইউরোপে বেশি।
৯ নভেম্বর প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুধু রাশিয়াসহ ইউরোপেই করোনা সংক্রমণ নতুন করে বেড়েছে। অন্যান্য দেশে এই হার যখন স্থিতিশীল বা কমার দিকে, তখন ইউরোপে ওই সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়েছে ৭ শতাংশ। এ ছাড়া এ সময়ে মৃতের হারও ১০ শতাংশ বেড়েছে।
শুক্রবার অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর আলেক্সান্দার স্ল্যাচেনবার্গ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ধরা পড়া দুটি অঞ্চলে টিকা না নেয়াদের জন্য লকডাউন আরোপ করা হবে। পরে এই লকডাউন দেশজুড়ে দেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে নাগরিকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছে জার্মানির সরকার। একই সঙ্গে শনিবার থেকে দেশটিতে বিনা মূল্যে করোনা পরীক্ষার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
