নজর২৪ ডেস্ক- প্রতি ঘনমিটার পানির দাম আগামী জানুয়ারি থেকে ৫ শতাংশ হারে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) ছামছুল আলম জানান।
তিনি বলেন, “আগামী বোর্ড সভায় সব বিষয় যাচাই করা হবে। ১ জানুয়ারি থেকে এই দাম কার্যকর হতে পারে।”
৫ শতাংশ হারে দাম বাড়লে আবাসিকে প্রতি ঘনমিটার (একহাজার লিটার) পানির দাম হবে ১৩ টাকা দুই পয়সা, অনাবাসিকে ৩১ টাকা ৮২ পয়সা।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসার আবাসিক সংযোগে প্রতি হাজার লিটার পানির দাম ১২ টাকা ৪০ পয়সা এবং বাণিজ্যিকে ৩০ টাকা ৩০ পয়সা করা হয়।
তার আগে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক দফা পানির বাড় বাড়িয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। তখন আবাসিকে প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) ৯ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৯২ পয়সা এবং বাণিজ্যিক খাতে প্রতি ইউনিট ২৬ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৭ টাকা ৫৬ পয়সা করা হয়।
এরপর ২০১৯ সালের অগাস্টে পানির দাম প্রায় দ্বিগুণ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা। সেই প্রস্তাবে সম্মতি মেলেনি।
সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার বিলযোগ্য মোট সংযোগ ৭৭ হাজার ২৬৫। এর মধ্যে আবাসিক সংযোগ ৭১ হাজার ৯৯, অনাবাসিক খাতে ৫ হাজার ২৭৩টি। বর্তমান সংযোগের মধ্যে পানির ব্যবহার আবাসিক খাতে ৯৩ শতাংশ, অনাবাসিক খাতে ৭ শতাংশ।
পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন আইন ১৯৯৬ এর ২২ (২) ধারা অনুযায়ী, প্রতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম ওয়াসা বোর্ড কর্তৃপক্ষ মুদ্রাস্ফীতির কারণে পাঁচ শতাংশ হারে পানির দাম সমন্বয় করতে পারে।
এদিকে পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে সব কিছুরই দাম বাড়ছে। ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে দফায় দফায়। এ অবস্থায় পানির দাম বৃদ্ধি কতটুকু যৌক্তিক তা ভেবে দেখতে হবে। ওয়াসা এ মুহূর্তে পানির দাম না বাড়ালেও পারত।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের বোর্ড সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের কাজ কি শুধু দফায় দফায় পানির দাম বাড়িয়ে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো? শুধু পানির দাম বাড়ানোর সময় ওয়াসার বোর্ড সদস্যদের দেখা যায়। সেবা নিয়ে গ্রাহকরা যখন কোনো অভিযোগ করেন, তখন তাদের পাওয়া যায় না— এটা হতাশাজনক।
আগের সংবাদ পড়ুন-
