নামাজ, কোরআন শরীফই এখন আমার সাথী: আহমেদ শরীফ

ahmed sorif n234

বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই সিনেমার দাপুটে অভিনেতা আহমেদ শরীফ দীর্ঘদিন ধরেই রিল লাইফ থেকে দূরে রয়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সম্পতি তিনি দেশে এসেছেন।

 

বুধবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে এসেছিলেন আহমেদ শরীফ। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ‘আমেরিকায় আমার সব আছে। আমার ওষুধ ফ্রি, চলাফেরা ফ্রি, বাসস্থান ফ্রি। কিন্তু তবুও মনে হয় কিছুই নেই। মনে হয়, আমার ভেতরের হার্টটা খালি। চেনা চেহারাগুলো দেখতে পারি না।’

 

এই অভিনেতা যোগ করেন, ‘ওখানে বসে সবচেয়ে বড় যে কাজটা করতে পেরেছি, তা হলো- আমি বাংলায় কোরআন শরীফ পড়ে শেষ করেছি। কোরআন শরীফে কী নির্দেশ…আগে যখন ছেলেবেলায় পড়েছি কিছুই বুঝতাম না, এখন বাংলায় কোরআন পড়ে এইটুকু বলতে পারি প্রত্যেকটি আয়াত আমার কাল্বের মধ্যে ঢুকে গেছে আল্লাহ তা’য়ালা রাসুলকে (সা.) কী বলেছেন। মানুষের জন্য কোনটা উপকারী, কোনটা উপকারী না। কোন শাস্তি তিনি মানুষকে দেবেন। সবকিছু সেখানে আছে। ভেরি ক্লিয়ারলি বাংলায় লেখা আছে। বাংলায় কোরআন পড়ে এই বয়সে আমি অনেক কিছু বুঝতে পেরেছি। আমি সেভাবেই দিনাতিপাত করছি। এখন নামাজ, কোরআন শরীফ পড়া, এগুলোই আমার সাথী।’

 

দীর্ঘ ৫০ বছর সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আহমেদ শরীফ। সিনেমার বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “খুব কষ্ট লাগে। আমি জানি না কেন। কাউকে দোষারোপ করবো না। কারণ দোষারোপ করা ঠিক নয়। কী কারণে এরকম হয়েছে, বাংলাদেশের চলচিত্র, চলচ্চিত্রের ব্যবসা। খুব দুঃখ লাগে। একটি সময় ছিল, বড়-বড় হলগুলোতে ‘হাউজফুল’ একটি লাল বোর্ড ছিল। এখন দীর্ঘ ২০ বছরে কোথায়-কোথায় দেখেছেন? লাল বোর্ডটি নাই হয়ে গেছে।”

 

এখন ১৪-১৫ জন দর্শক নিয়ে হল চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি তো অবাক। কী করে চলে! মালিক বেতন দিতে পারে না। না চললে কী করবে? আসলেই খুব কষ্টের কথা।’

 

আহমেদ শরীফ বলেন, ‘একজনের সঙ্গে আরেকজনের হৃদয়ের যে কানেকশন, সেটাও নষ্ট হয়ে গেছে। ছোট-বড়দের মধ্যে কোনো রকমের শৃঙ্খলা নেই। আমরা কোনো দিন, অন্তত আমি নিজের কথা বলি, আমি কোনো দিন খলিল ভাই, রাজ্জাক সাহেব, তাদের সামনে চেয়ারে বসতাম না। যদি তারা অনুমতি দিত, তাহলে বসতাম। যতক্ষণ অনুমতি দিত না ততক্ষণ পর্যন্ত আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম।’

 

তিনি বলেন, ‘এখন কী দেখেছেন, এরকম কিছু আছে, নেই। আমি মনে করি, অনেক কিছু মিলিয়েই আজকে এই চলচ্চিত্র, যেটা সারা পৃথিবীতে একটা বড় কিছু। এটি বাংলাদেশ থেকে শেষ হয়ে গেল। একেবারেই শেষ হয়ে গেল।’

 

আহমেদ শরীফ বলেন, ‘কত লোক যে না খেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে, আমি বলতে পারবো না। তবে বহু লোক আমার জানামতে একেবারে বসে গেছে, তাদের জীবন চলার সঙ্গতি নেই, চলচিত্রের মানুষ।’

 

চলচিত্রের এ অবস্থার জন্য কাউকে দায় দিচ্ছেন না ব্যবসাসফল হওয়া অনেক সিনেমার এ অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘দায়ী কাউকে বলতে পারবো না। কপালের লিখন হয়তো। দায়ী করা যাবে না, কারণ সে হল আছে, সেই শিল্পী আছে, পরিচালকরাও আছে। একইভাবে লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনও হচ্ছে, সিনেমাও তৈরি হচ্ছে কিন্তু চলছে না। কেন, কী কারণ, সেটা খুঁজে বের করতে পারলেই হয়ে যাবে।’

 

চলচিত্রের এ অবস্থা থেকে উন্নতি ঘটাতে আধুনিক সিনেমা হল তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন আহমেদ শরীফ। বললেন, ‘আমি মনে করি, সরকারিভাবে যদি ৬৪টি জেলায় যদি কিছু লেটেস্ট সিনেমা হল বা মুভি থিয়েটার তৈরি করা যায় এবং যদি বিপুল উৎসাহ নিয়ে প্রচার করা যায়, তাহলে আমার মনে হয় সিনেমা হল দেখার জন্য হলেও এবং আরাম নিতে হলেও অনেক লোক যাবে। ভাল ছবি বানিয়ে যদি হলগুলোতে দেওয়া হয় তাহলে দিনে-দিনে আবার ব্যবসা ফিরে আসবে। তবে ভালো ছবি হতে হবে।’

 

এখন কেউ ঠেলাঠেলি করে সিনেমা হলে যেতে চায় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘সিনেমা হলে যাবো, আরাম-আয়েশ করবো পাশে রেস্টুরেন্ট থাকবে ভালো, খাব এরপর রাতে চলে আসবো। একসাথে তিনটি কাজ করে এখন। বিদেশে দেখলাম, শপিং করে, সিনেমা দেখে রেস্টুরেন্টে খায় এরপর বাড়ি যায়। আমাদেরও সেরকম স্টাইল করতে হবে। কারণ পৃথিবী এখন অনেক ফাস্ট হয়ে গেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *