বিনোদন ডেস্ক- ধারাবাহিক নাটক পরিচালনায় পরিচিতি পাওয়া অরণ্য আনোয়ার এবারই প্রথম ‘মা’ নামে একটি সিনেমা পরিচালনা করছেন। দুই যুগের ক্যারিয়ারে তার বানানো বহু নাটক থেকে উঠে এসেছেন আজকের জনপ্রিয় অনেক তারকা। হুমায়ূন আহমেদ পরবর্তী মাহফুজ আহমেদ যেসব নির্মাতার নাটকে কাজ করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম অরণ্য আনোয়ার।
কেন এত দেরিতে সিনেমা পরিচালনা করছেন জানতে চাইলেন অরণ্য আনোয়ার শাবনূরকে টেনে আনেন! বলেন, ২০১০ সালেই একটি সিনেমা করতে চেয়েছিলাম। সেই সিনেমায় শাবনূর চূড়ান্ত ছিলেন। কিন্তু তিনি কাজটি করেননি।
১০ বছর আগেই ডিজিটাল ফরম্যাটে সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে অরণ্য আনোয়ার বলেন, মহরতের দিন শাবনূর জানায় সে থার্টিফাইভ ছাড়া শুটিং করবে না। শাবনূর না করায় সিনেমাটি আর করা হয়নি। বিধায় আমার সিনেমাতে বানাতে দেরি হলো। এরপর কেটে গেছে ১১ বছর। আমার প্রথম সিনেমায় রুনা খান, নওশাবা, অর্ষা অনেককেই ভাবলেও অবশেষে পরীমনিকে পেলাম। এখন ডিজিটালভাবে খরচ বেশী হলেও এরি এলেক্সা ক্যামেরায় শুটিং করছি।
অরণ্য আনোয়ার বলেন, শুটিংয়ের আগে ভেবেছিলাম নাটকের মতো লাগবে সিনেমার শুটিং করতে। কিন্তু শুটিং করতে গিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। ডিওপি, সেট ডিজাইনার, লাইন প্রডিউসার সবার সঙ্গে কাজ করে মনে হচ্ছে সিনেমা একেবারেই আলাদা। মঞ্চের সঙ্গে টিভির যেমন সম্পর্ক নেই তেমনি নাটকের সঙ্গে সিনেমার সম্পর্ক নেই। আমার বিশ্বাস আমার প্রথম সিনেমা থেকে অডিয়েন্স একটি পরিশুদ্ধ গল্প পাবেন। সেই চেষ্টাই করছি।
যুদ্ধকালীন একজন মা ও একটি বাচ্চার গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে অরণ্য আনোয়ারের সিনেমা ‘মা’। মায়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন পরীমনি। গাজীপুরের কাপাসিয়াতে ইতোমধ্যে পাঁচদিন শুটিং করছেন অরণ্য আনোয়ার। পরের লটে পরীমনির অংশ নেয়ার কথা। বর্তমানে শুটিং করছেন আবুল কালাম আজাদ, সাজু খাদেম, জুঁই করিম, শাহাদৎ হোসেনসহ অনেকে।
বুধবার শুটিং স্পটে কথা হয় পরিচালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরীমনি সম্পর্কে আগে তেমন ধারণা ছিল না। ঢাকার বোটক্লাবে তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটে সেখান থেকে তার প্রতিবাদের বিষয়টি আমাকে ছুঁয়ে যায়। সে কত বড় অভিনেত্রী সেটা আমার কাছে ম্যাটার করে না। বরং ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার লড়াইয়ের সাহসকে শ্রদ্ধা বাড়িয়েছে। পরে সে জেলে গেলে দেশের মানুষের তার প্রতি যে অনুভূতির সৃষ্টি হয় এবং তাকে নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয় সেই কারণে পরীমনিকে নিয়েছি।
‘মা’ সিনেমায় মমিনুলের চরিত্র অভিনয় করছেন সাজু খাদেম। পাকিস্তানি আর্মির সহযোগী হিসেবে দেখা যাবে তাকে। জানতে চাইলে সাজু খাদেম বলেন, ‘১৯৭০’র নির্বাচন থেকে শুরু করে আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর্যন্ত গল্প। পুরো দেশের অবস্থা একটি গ্রামের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। আমার চরিত্রের নাম মমিনুল। পাকিস্তানের স্বপক্ষের একটি দলের নেতা। গল্পে আমার তিন বউ।’
‘মা’ সিনেমার গল্প লিখেছেন পুলক কান্তি বড়ুয়া। পরিচালনার পাশাপাশি এ সিনেমার চিত্রনাট্যও করেছেন অরণ্য আনোয়ার। ২০২২ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা করছেন নির্মাতা। প্রথম লটের চিত্রায়ণ শেষে পোস্ট প্রডাকশনের কাজ শুরু করবেন নির্মাতা। ভিএফএক্সের মাধ্যমে ব্রিজ, পাকিস্তানি ক্যাম্প উড়িয়ে দেওয়ার কাজ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
