স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘গায়েব’ হওয়া সেই ১৭ নথিতে কী ছিল?

নজর২৪ ডেস্ক- সরকারের ‘এ’ ক্যাটাগরির কেপিআইভুক্ত (কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন) যেসব প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনা রয়েছে, সচিবালয় সেগুলোর একটি। সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তাবলয়ে থাকা এই সচিবালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ’ বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি নথি চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত নথি চুরির এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। উদঘাটন হয়নি নথি চুরির রহস্যও।

 

জানা গেছে, সচিবালয়ের কেবিনেট থেকে গায়েব হওয়া স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের নথিগুলো ছিল মন্ত্রণালয় ও অধীনস্ত সংস্থার ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য। তবে কী ধরনের ক্রয়ের তথ্য ছিল, সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এ ঘটনা কী উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে, তাও বুঝতে পারছেন না কর্মকর্তারা। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ২৯ নম্বর কক্ষ থেকে ১৭টি নথি হারানোর কথা জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাদিয়া হায়দার। এরপর রোববার সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় বিভাগের ছয় কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় সিআইডি।

 

সিআইডি যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তাদের মধ্যে সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর জোসেফ সরদার ও আয়েশা সিদ্দিকার কাছেই থাকত কেবিনেটের চাবি। তারা দাবি করছেন, বুধবার কেবিনেটে নথিগুলো দেখেছেন তারা। তবে বৃহস্পতিবার কেবিনেট খুললে সেগুলো আর পাওয়া যায়নি।

 

নথি উধাওয়ের ঘটনায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) শাহ্ আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. নুর আলী বলেন, ‘এগুলো মূলত ক্রয় সংক্রান্ত নথি। তেমন গোপনীয় কিছু নেই। প্রত্যেক ফাইলের তথ্য অন্যান্য বিভাগে এবং আমাদের কম্পিউটারেও আছে। এটা নিয়ে তেমন সমস্যা না। মূল বিষয় ফাইল মিসিং হওয়াটা। এটাই আমার কাছে বড় বিষয়। সেটি উদ্ধারে আমরা চেষ্টা করছি।

 

‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের যে সব ক্রয়, তা অত্যন্ত ‘নমিনাল’ (প্রচুর নয়)। আর অন্যান্য ক্রয়ের নথি প্রত্যেক ডিজি অফিসে আছে। মূল ফাইল তাদের কাছেই থাকে। আমাদের এখানে শুধু অনুমোদনের জন্য আসে। এই চিঠিও তাদের কাছে আছে। তাদের প্রোপোজালগুলো তাদের কাছেও আছে, আমাদের কাছেও আছে।’

 

এটি ইচ্ছাকৃত অনিষ্ট সাধনের চেষ্টা (সাবোট্যাজ) কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনই এ বিষয়ে কমেন্ট করতে চাই না। যেহেতু তদন্ত হচ্ছে, আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা যেন উঠে আসে।

 

‘বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। এর প্রোগ্রেস জানার পর তাদের ফিডব্যাকটা নেয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে কেউই এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি বলে জানান স্বাস্থ্য শিক্ষা সচিব নুর আলী। তিনি বলেন, ‘স্বীকার করলে আমরা হয়ত জানতাম। তারা বলেছে, তারা ফাইল রেখেছে, লকার যখন খুলেছে, দেখে ফাইল নেই। এটাই তাদের বক্তব্য। সবার উপস্থিতিতেই তারা এটা বলেছে।

 

‘তারা বলেছে, লকার লক করাই ছিল, খোলার পর দেখে ফাইল নেই। আমরা জানতে পেরেছি বৃহস্পতিবার যখন তারা ফাইল আনতে গেছে।’

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থানায় যে সাধারণ ডায়েরি করেছে, সেখানেও নথিগুলোকে ক্রয় সংক্রান্ত বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানের জন্য উপকরণ কেনার তথ্য আছে এসব নথিতে, সেগুলো হলো ইলেক্ট্রনিক ডাটা ট্রেকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু মুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচি, শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ স্কুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *