স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু। এরপর সুপার টুয়েলভে টানা দুই হার। তাতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে বাংলাদেশের। সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক। তবে এ সমালোচনা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না টাইগাররা। মুশফিকুর রহিম হতে শুরু করে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ পর্যন্ত এরজন্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তবে সাবেক সতীর্থদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও হেরেছে বাংলাদেশ। এদিন তো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি দলটি। অনেকটা অসহায় আত্মসমর্পণ করে ২৯ বল বাকি থাকতেই হেরেছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। তাতে সেমি-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন কঠিন হয়ে গেছে তাদের।
তবে টাইগারদের নিয়ে সমালোচনাটা বেশি হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর মুশফিকের মন্তব্য নিয়ে। টানা ১৩ ম্যাচ ব্যর্থতার পর হাফসেঞ্চুরি পেয়েই সমালোচকদের এক হাত নেন তিনি। এমনকি যারা সমালোচনা করেন তাদের আয়নায় মুখ দেখে নিতেও বলেন তিনি। মুশফিকের এমন মন্তব্যে সমালোচনার পাশাপাশি তাকে নিয়ে ট্রলও হচ্ছে ব্যাপক। অনেকেই তার নাম দিয়েছেন ‘আয়নাম্যান’।
আর দুঃসময়ে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফিকে পাশে পাচ্ছেন টাইগাররা। আজ (বুধবার) ম্যাচ শেষে নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তেমনটাই জানিয়েছেন এই পেসার।
পোস্টের শুরুতেই সবার সমালোচনা ক্রিকেটারদের সহজভাবে নেওয়ার আহ্বান তার, ‘সমালোচনা জীবনের একটা অংশ, এটা সহ্য করাও একটা আর্ট। যে যত সমালোচনা নিতে পারে সে তত ভালো থাকে। ঠিক এই মুহূর্তে তোমাদের সমালোচনা সবাই করবে, এমনকি আমিও, তাতে তোমাদের কিছু যায়-আসার কথা নয়। শুধু তোমাদের চিন্তা করা উচিত তোমরা কী করতে চেয়েছিলে আর তা কেন করতে পারোনি। পরের ম্যাচে যেন সেরাটা দিতে পারো সেই চিন্তা করা শুরু করো। কারণ, পরের ম্যাচটাও তোমরা বাংলাদেশের জন্যই খেলবে আর দেশের সবাই আবার নতুন কোনও আশা নিয়ে খেলা দেখতে বসবে। মাঝখান দিয়ে হয়তো কেউ গঠনমূলক সমালোচনা অথবা আরও বেশি নেতিবাচক কথা বলবে।’
এরপরই মাশরাফি মাঠের পারফরম্যান্সকে পেছনে ফেলে মাহমুদউল্লাহদের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন, ‘তোমাদের ভালোবাসে বলেই এত কথা বলে, নেক্সট ম্যাচেই সেরাটা দিয়ে জিতে আসলে, দেখবা সবাই আনন্দে পেছনের জিনিস ভুলে যাবে। একমাত্র ইতিবাচক মানসিকতাই সেরাটা বের করে আনতে পারবে আমার বিশ্বাস। মাঠে যা কিছুই ঘটুক না কেন, তোমাদের পাশেই আছি। মনপ্রাণ দিয়েই থাকবো। সবাই বিশ্বাস করে তোমরাই আনন্দের উপলক্ষ।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে দিন ভুলে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক, ‘বাজে দিন ভুলে যাওয়াই উত্তম, তবে বাজে দিন যে শিক্ষা দিয়ে যাবে তা মনে রাখা আরও উত্তম। গুডলাক বাংলাদেশ ক্রিকেট। আল্লাহ ভরসা।’
