নজর২৪, ঢাকা- অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ হয়েছে ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ’ নামে একটি নতুন দলের। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দলটির আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও দফায়-দফায় তা পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সকালে পুরানা পল্টনের প্রিতম-জামান ভবনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে প্রায় দুই বছরের এই উদ্যোগটি।
এদিকে আত্মপ্রকাশের দিনেই এই দল এবং এর সহযোগী সংগঠন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদকে ‘জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হককে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই দুই দাবিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আধঘণ্টার জন্য রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এই অবরোধ চলে। অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, বাংলামোটর, সায়েন্স ল্যাব ও টিএসসি অভিমুখী মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট৷
সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এসব সাম্প্রদায়িক হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্র, যুব ও গণ অধিকার পরিষদকে নিষিদ্ধসহ হামলার মদতদাতা রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরকে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় সুস্পষ্ট প্রমাণসহ নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের প্রত্যক্ষ মদতে তাদের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিনে চট্টগ্রামের জে এম সেন পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসকে উসকে দিয়েছিল।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন সংগঠনের নেতারা সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনায়ই জুমার নামাজ শেষে তাৎক্ষণিক মিছিল ও সমাবেশ করে। পরে সেই মিছিল থেকে পূজামণ্ডপে হামলা চালানো হয়েছিল। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের প্রতিটি সাম্প্রদায়িক হামলায় রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। নুরের মিথ্যাচার প্রমাণ করে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো তাদের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। এজন্যই সে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের বহিষ্কার না করে বরং তাদের পক্ষে কথা বলে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোকে আরও উসকে দিয়েছে।
আল মামুন আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব শক্তি সাম্প্রদায়িক সংগঠন গণ অধিকার পরিষদকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সংগঠনকে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেবে না বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। গণ অধিকার পরিষদের ব্যানারে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাই রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরদের মূল উদ্দেশ্য বলেই মনে করেন তিনি।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ থেকে দুই দফা দাবি জানানো হয়। দুটি দাবি হলো- ১. চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার মদতদাতা রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুর গংদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে; ২. জঙ্গি, সাম্প্রদায়িক ও সন্ত্রাসী সংগঠন গণ অধিকার পরিষদসহ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
সমাবেশে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, বিশিষ্ট ভাস্কর শিল্পী রাশা ও সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
