গ্রাহকেরা টাকা ফেরত পাবে, তবে সময় চায় ইভ্যালির নতুন বোর্ড

নজর২৪ ডেস্ক- গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া ও আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই নিজেদের কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় উচ্চ আদালতের করে দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের প্রধান আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইভ্যালির কার্যালয়ে মঙ্গলবার প্রথম সভা করেছে এই পরিচালনা বোর্ড। এর মধ্য দিয়ে কার্যালয়ের দখল বুঝে নিয়েছেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি এই প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বাঁচানো যায়। আমরা অনেক খোঁজখবর পেয়েছি। অনেক ইনফরমেশন পেয়েছি। অনেক কর্মকর্তার নাম পেয়েছি। সবাইকে আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

 

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে থাকার সময় মো. রাসেলের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের পাশাপাশি অর্থ পাচারের অভিযোগও পেয়েছেন বর্তমান পরিচালনা বোর্ড।

 

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা এই খবরও পেয়েছি যে রাসেল বারবার বিদেশে গিয়েছেন। বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। সেই টাকাগুলোর খবর করে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। সোজা কথা কাউকে ছাড়ব না।’

 

বেশ কিছু গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আগের কর্ণধার রাসেলের সঙ্গে বর্তমান বোর্ড যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে বলে খবর এসেছে। এতে ভীষণ চটেছেন বোর্ড প্রধান।

 

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, রাসেলের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কোনো প্রশ্নই আসতে পারে না। বরং উল্টো রাসেলের শ্যালিকাসহ আর কারা আছে তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা আমরা করছি। তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

 

গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা কত পান না পান, সেগুলো তো আমার হিসাব করতে হবে। এদের কত সম্পদ আছে, সেটা হিসাব করতে হবে। এগুলো অডিট করার পর এসব বিষয় আসবে। এর জন্য অনেক সময় লাগবে।’

 

‘গ্রাহকের অর্থ যতটা সম্ভব ফেরত দেয়া যায়’ সেই চেষ্টাটা থাকবেও বলেও জানান ইভ্যালি পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের প্রধান এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

 

উল্লেখ্য, ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানি আদালতে ইভ্যালি অবসায়নে কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ অক্টোবর ইভ্যালির ব্যবস্থাপনার জন্য আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বোর্ড গঠন করেন।

 

বোর্ডের অন্য সদস্যরা হলেন, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, ওএসডিতে থাকা আলোচিত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত জুন মাসে ইভ্যালির ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। এতে উঠে আ‌সে, ইভ্যালির চলতি সম্পদের পরিমাণ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

 

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলায় বর্তমানে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন কারাগারে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *