নজর২৪ ডেস্ক- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিতর্কিত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগামী ১৯ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
গতকাল শুক্রবার দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এমন বার্তা দেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের যে আপত্তিকর ভিডিও এবং অডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা দলের দৃষ্টিতে আসে। এরপর গত ৩ অক্টোবর দল থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে চিঠি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়েই জাহাঙ্গীর আলম চিঠির জবাব দেন। কিন্তু চিঠিতে মেয়র জাহাঙ্গীর ওই মন্তব্যের কারণ হিসেবে যে জবাব দিয়েছেন তাতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গতকালের বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা
এমন বক্তব্য দিতে পারেন না; এটা অপ্রত্যাশিত। শুধু আওয়ামী লীগ নেতা কেন, দলের বাইরের কোনো ব্যক্তিও এমন বক্তব্য দেবেন বলে আমি মনে করি না। এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদে আলোচনা করা উচিত। তিনি জানান, জাহাঙ্গীরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী ১৯ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে তার কারণ দর্শানোর জবাবের পর্যালোচনা করা হবে। ওইদিনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত গতকালের বৈঠকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশচন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, রশিদুল আলম, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
