২৬ অক্টোবর রাজনৈতিক দল ঘোষণা করতে চান ভিপি নুর

নজর২৪ ডেস্ক- ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে আসছেন। আগামী ২৬ অক্টোবর নতুন রাজনৈতিক দলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে চান তিনি। এ নিয়ে অনুষ্ঠান করার জন্য প্রশাসনের অনুমতি চেয়েছেন তিনি। ফেসবুকে বিষয়টি জানিয়েছেন নুর।

 

বাংলাদেশ ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে তারা দল ঘোষণার অনুষ্ঠানটি করতে চান। অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে ২০ অক্টোবর আবেদন জানানো হয়েছে।

 

বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে নুর ফেসবুকে লিখেছেন, গত সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখ দল ঘোষণার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সেটা সম্ভব হয়নি। পরিবর্তিত তারিখ আবার অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ করা হয়েছিল, প্রশাসনিক জটিলতায় ভেন্যু না পাওয়ায় সেটিও পরিবর্তন করে আজকে আবার ২৬ অক্টোবর প্রোগ্রাম করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আশা করি, সরকার ও প্রশাসন আমাদের দল ঘোষণায় আর কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।

 

নতুন দলের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা নুরুল হক সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এককভাবে নির্বাচন করার কথা ভাবছি, যাতে মানুষ আমাদের বিকল্প শক্তি হিসেবে ভাবে। আর নতুন দল ঘোষণার পর আমাদের প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন।’ তাঁর মতে, এ বিষয়ে বড় চাপ তৈরি করা না গেলে সরকারি দল তাদের অনুগত ইসি গঠন করবে।

 

নিবন্ধন না পেলে কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, ‘শর্ত পূরণ হলে ইসি নিবন্ধন দিতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা নিবন্ধন না পেলে কোনো ভোটই হবে না।’

 

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ওই আন্দোলনের সময় বেশ কয়েকবার হামলার মুখে পড়েন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন তিনি।

 

গত তিন বছরে নানা বাধাবিপত্তির পর নতুন দল গঠনে নামেন নুরুল হক ও তাঁর সঙ্গীরা। এই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অন্তত ১৩ বার আ ক্রা ন্ত হন তিনি। তাঁর নামে এখনো ১৭টি মামলা আছে। এ ছাড়া তাঁর সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও বেশ কয়টি মামলা রয়েছে।

 

সবশেষ গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সং ঘ র্ষের ঘটনায় মতিঝিল ও শাহবাগ থানায় তিনটি মামলা হয়। এসব মামলায় ৬৯ জনকে আসামি করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে এখনো কয়েকজন কারাগারে।

 

নুরুল হক বর্তমানে ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক। পরিষদ সূত্র জানায়, কোটাবিরোধী আন্দোলনের পর তারা বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত বিষয়ে প্রতিবাদ ও কর্মসূচি পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দল গড়ার উদ্যোগ নেন সংগঠনের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *