রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রত্যাহার করতে হবে: অনুপম সেন

নজর২৪, চট্রগ্রাম- বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে হলে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রত্যাহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন।

 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি প্রকৃত অর্থে বিজ্ঞানভিত্তিক, আধুনিক রাষ্ট্র করতে হয়, তাহলে সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রত্যাহার করুন। এরশাদ যে রাষ্ট্রধর্ম করেছিল, সেটা বাদ দিতে হবে। বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী মুরাদ এ কথা বলার পর সাঈদ খোকন তার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। এরকম কত সাঈদ খোকন দলের ভেতরে আছে, তাদের খুঁজে বের করুন।’

 

সোমবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে ‘সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ড. অনুপম এসব কথা বলেন।

 

অনুপম সেন বলেন, আমি দাবি করছি, ১৯৮৮ সালে যে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করেছিল এরশাদ তা বাদ দিতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধানকে একটি সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক সংবিধান হতে হবে। যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকে, তবে অন্যরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। যদি বলেন সবাই দেশের নাগরিক, তবে তো রাষ্ট্রধর্ম থাকতে পারে না।

 

সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা কোনো ভূমিকা পালন না করায় এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, শেখ হাসিনা আজ একা হয়ে গেছেন।

 

সমাবেশে অনুপম সেন বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন, আপনি কী করেছেন? এই প্রশ্ন করার অধিকার আপনাদের আছে। আমিও প্রশ্ন করতে পারি— আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ আজ কোথায়? তারা রাস্তায় নেই কেন? স্বাধীনতার আগে পূর্ব-পাকিস্তানে বারবার সাম্প্রদায়িক আঘাত এসেছে। ১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক আঘাত আসার পর বঙ্গবন্ধু সেদিন রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ছাত্র ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি রাস্তায় রুখে দাঁড়িয়েছিল। সেদিন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগও রাস্তায় ছিল।’

 

তিনি বলেন, ‘তারা অ ত্যা চারিত হয়েছে, তারা জেলে গেছে, নানাভাবে নি র্যা তিত হয়েছে। কিন্তু রাস্তা ছাড়েনি। আজ কেন আমি রাস্তায় ছাত্রলীগের ছেলেদের দেখি না? এত বড় সংগঠন আওয়ামী লীগ, এই আওয়ামী লীগের কত শাখা সংগঠন— ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কত লীগ— তারা কেন নেই রাস্তায়, তারা কোথায়? আমি তাদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

‘আমি মনে করি, শেখ হাসিনা আজ একা হয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, কঠোর শাস্তি দেবো। কিন্তু তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন বলেন, এখনো তদন্ত চলছে? তদন্ত এতদিন ধরে চলবে কেন? অষ্টমীর দিন ঘটনা, ছয়-সাত দিন পেরিয়ে গেছে। তারপরও কেন তদন্ত প্রতিবেদন পাব না— এর উত্তর চাই। অবিলম্বে তদন্তের খবর দিন, দোষীদের আইনের কাছে সোপর্দ করুন। তাহলে এ দেশে হিন্দু সম্প্রদায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়— শব্দটা আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, তারা বুঝবে যে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে। প্রশাসন কী করছে? যারা ইন্ধন দিচ্ছে, যারা ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাদের ধরছে না কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি করছি, আপনি তাদের ধরুন, তাদের শাস্তি দিন।’

 

গণমাধ্যমকেও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মিডিয়া এতদিন অল্প অল্প করে দিয়েছেন। সেটা পাকিস্তান আমলে হয়েছে। এখন বলুন। সব কাগজে হেডিং দিন- ‘বাংলাদেশ রুখিয়া দাঁড়াও’। প্রতি টেলিভিশনে বলুন- বাংলাদেশ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখিয়া দাঁড়াও।”

 

সমাবেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, “আজকের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, কিন্তু এটা বঙ্গবন্ধুর দল নয়।

 

“সংবিধানে বাংলাদেশ আছে, পাকিস্তানও আছে। বঙ্গবন্ধু আছেন, জিন্নাহ সাহেবও আছে। দলে অনেক মোশতাক। মুজিব কোট গায়ে দিয়ে পাকিস্তানি প্রেতাত্মার সাথে মেলবন্ধন করে এ হামলাগুলো করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টি হতভাগ্য জনগণের কাছে পৌঁছায় না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *