এক জীবনে মানুষের সব ইচ্ছা পূরণ হয় না: রিয়াজ

রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক। যিনি রিয়াজ নামেই পরিচিত, হলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি দায়িত্ব পালন করছেন চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য গঠিত জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে। পাশাপাশি অভিনয় করছেন ‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমায়।

নতুন কাজ, বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে এক জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি-

এর আগেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারকার ছবিতে কী পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন?

এবারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য মাত্র ২৭টি সিনেমা জমা পড়েছে। এরই মধ্যে প্রায় সব চলচ্চিত্রই দেখা হয়েছে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবারের কম চলচ্চিত্র জমা পড়ার অন্যতম কারণ হলো করোনা। ২০২০ সালের প্রথম তিন মাস দেশের সিনেমা হল খোলা ছিল, এরপর করোনার কারণে প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকে সিনেমা হল। যে কারণে ছবি মুক্তিও কম হয়েছে। যেসব ছবি মুক্তি পেয়েছে, তার অধিকাংশ ছবিতে তাড়াহুড়ো নির্মাণ লক্ষ্য করেছি।

আপনি ‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে ‘তাজউদ্দীন’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবির কাজ কতটুকু হয়েছে …

এরই মধ্যে ছবির তিন লটের কাজ করেছি। এটি ঐতিহাসিক ছবি। শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ছবিতে অভিনয় মানেই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকা। তাজউদ্দীন আহমদকে ‘বঙ্গতাজ’ বলা হতো। ছবিতে তার চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বেশ পড়াশোনা করতে হয়েছে। এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা আনন্দের। গর্বেরও। ছবির সঙ্গে একেবারে শেষের দিকে যুক্ত হয়েছি। নির্মাতা আমাকে যেভাবে বলেছেন তা অনুসরণ করে সাধ্যমতো অভিনয়ের চেষ্টা করেছি। বাকিটা দর্শক ভালো বলতে পারবেন।

দেশের চলচ্চিত্রে এই সময়ে কী সংকট দেখছেন?

আমাদের চলচ্চিত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব রয়েছে, যার মাধ্যমে নিয়মিত নতুন নতুন নির্মাতা ও কলাকুশলী তৈরি হবে। এখন ফেসবুক, ইউটিউব, ওটিটির যুগ। আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারিনি। আমাদের আরও আপডেট হতে হবে। নির্মাতাদের নতুন ভাবনা নিয়ে ছবি বানাতে হবে। পুরোনো ধারণা ভেঙে নতুনত্বকে আলিঙ্গন করতে হবে। চলচ্চিত্র বানাতে হবে আন্তর্জাতিক বাজারের কথা মাথায় রাখে। প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে বিশ্বমানের ছবি নির্মাণ করতে হবে।

একসময় চলচ্চিত্রে ব্যস্ত সময় কাটাতেন। এখন কম কাজ করছেন। পেছনের কথা মনে পড়ে …

মানুষের জীবন চাকার মতো। একটা সময় ওপরে যায়, আবার নিচে নেমে আসে। ঘুরতেই থাকে। এটাই নিয়ম। এগুলো নিয়ে ভাবি না। তাছাড়া চলচ্চিত্রে কাজের মতো তেমন গল্প এখন পাই না। ফলে পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাই।

পরিচালনার কথা বলেছিলেন। কাজের অগ্রগতি কী?

এখনও তেমন কিছুই করতে পারিনি। এই সময়ে সিনেমা নির্মাণ কিংবা প্রযোজনা করা যায় কিনা তা বোঝার চেষ্টা করছি। এক জীবনে মানুষের সব ইচ্ছা পূরণও হয় না।

জানুয়ারিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুনলাম আপনি নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন …

বাইরে থেকে অনেক সময় অনেক কথাই শোনা যায়। আপনার মতো আমিও শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে এখনই কথা বলতে চাই না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *