ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

নজর২৪, ঢাকা- গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিষয়ে ওঠা অভিযোগ ও পরিচালনার নিয়ম পর্যালোচনা করতে চার সদস্যের বোর্ড গঠন করে দেবে হাইকোর্ট। এতে থাকবেন একজন সাবেক বিচারপতি, একজন সচিব, একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্টেড ও একজন আইনজীবী।

 

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এমন তিনজনের নাম উল্লেখ করে প্রস্তাব আদালতে পাঠানোর জন্য বলেছেন। এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ঠিক করা হয়েছে।

 

ইভ্যালির বিষয়ে হাইকোর্টে দাখিল করা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজের যাবতীয় নথি নিয়ে শুনানিতে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

আদালতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার ও প্রতিযোগিতা কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাপস কুমার বল। তিনি বলেন, ‘আজকের ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি ছিল। শুনানি শেষে আদালত বলেছে, এ বিষয়ে একটি বোর্ড গঠন করে দেয়া হবে।’

 

এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সব নথি হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব নথি দাখিল করেন জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রার।

 

এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব নথি তলব করেন হাইকোর্ট। ১২ অক্টোবরের মধ্যে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্ট্রারকে আদালতে সব নথি দাখিল করতে বলা হয়।

 

আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব ওইদিন জানিয়েছিলেন, আবেদনকারী ইভ্যালি অনলাইন শপিংমলে গত মে মাসে একটি ওয়াশিং মেশিন অর্ডার করেন। অর্ডারের সময় তিনি মোবাইল ফোনভিত্তিক ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছেন। এরপর কোম্পানিটি অনলাইনে তাকে একটি পণ্য কেনায় ৩৩ হাজার ৩০৮ টাকার একটি রসিদও দেয়।

 

কিন্তু এতদিনেও তারা পণ্যটি বুঝিয়ে দেয়নি। পণ্য বুঝে পেতে আবেদনকারী যোগাযোগ করলে তাকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু পণ্য বুঝিয়ে দেয়নি কিংবা টাকাও ফেরত দেয়নি। পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ই-ক্যাব, ভোক্তা অধিকারে কয়েকবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন এবং হাইকোর্টে কোম্পানিটির অবসায়ন চেয়ে আবেদন করেন।

 

আবেদনে ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজুমার রাইটস প্রটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *