তৌফিকুর রহমান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ঘাটাইলে আগর গাছ লাগিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। বন বিভাগের দেখানো স্বপ্ন তাদের কাছ এখন হতাশা।
টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ঘাটাইলের পাহাড়ি এলাকায় বন বিভাগের পরামর্শে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে বেশ কিছু জমিতে লাগানো হয় আগর গাছ। তবে চারা রোপনের সময় বন বিভাগ জানিয়েছিল আগর চারা লাগানোর ১০ বছরের মধ্যে এটি প্রসেসিংয়ের পর এর কস থেকে সুগন্ধি (পারফিউম) তৈরি হবে। এতে লাখ লাখ টাকা আয় হবে।
স্থানীয় কৃষক কামরুল হাসান জানান, বন বিভাগের দেখানো স্বপ্ন নিয়ে আগড় বাগান করি। গাছের বয়স প্রায় ১৩ বছর। ১০ বছরে বন বিভাগ আগড় বাগান ওয়াকশন করবে বলে জানিয়েছিল, কিন্তু আজ ১৩ বছর হয়ে গেল কোন খবর নেই। এ বিষয়ে অনেকবার বন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করলেও কোন লাভ হয় নি। শুধু আমি না আমার মত আরো অনেকে এখন আগড় বাগান করে হতাশায় ভুগছেন।
কামালপুর গ্রামের অরেক ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক বলেন, যে সময়সীমা দেয়া হয়েছিল আগর গাছের সেই সময় পার হয়েছে গত ৩ বছর হল। এখন পর্যন্ত কোন কিছুই দেখতে পারছি না। স্বপ্ন দেখিয়েছিল আগর বনায়নে ধনী হওয়া যাবে। এখনতো দেখি আগরে ফকির হইয়া গেছি। এটি এখন অভিশাপের গাছে পরিণত হয়েছে। এছাড়া আগর গাছ প্রক্রিয়াজাত করণের কোন ব্যবস্থা নেই টাঙ্গাইলে। শুনেছি সিলেটে নাকি এই গাছ প্রক্রিয়াজাত কারখানা রয়েছে।
দেখানো স্বপ্ন নিয়ে বনাঞ্চলে আগর গাছ বনায়ন করে এখন চোখে অন্ধকার দেখছে তারা। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও আগর গাছ কর্তণ করে প্রসেসিংয়ের উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিকরা। ফলে আগর গাছ এখন গলার কাটা বাগান মালিকদের কাছে। তবে বনবিভাগ বলছে, আগর প্রসেসিং করতে এখনও পরিপক্ক হয়নি। পরিপক্ক হতে আরো কমপক্ষে ৫ বছর সময় লাগবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার মধুপুর গড় ও ঘাটাইল পাহাড়ে বেশ কয়েকটি এলাকায় আগর গাছের বাগান তৈরি করা হয়েছে।

ঘাটাইলের কামালপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ বলেন, আগর বাগান করতে হবে না হলে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে এমন কথা বলে বনবিভাগ তখন আগর গাছের বনায়ন করায় আমাদের দিয়ে। এতে লাখ লাখ টাকার স্বপ্ন দেখায় তারা। আগর গাছ থেকে কষ বের হবে। কষ থেকে সেন্ট হবে। যা অনেক মূল্যবান। কিন্তু গাছের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। আগর গাছ দেখতে বনের কোন কর্মকর্তা আসে না।
মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বলেন, বনকর্মীদের আশ্বাসে এক যুগ আগে দেড় বিঘায় আগর গাছ লাগিয়েছিলাম। সে গাছ এখন গলার কাটা। সোনার দামে তো দূরের কথা সস্তা জ্বালানি কাঠ হিসেবেও বিক্রি করা যাচ্ছে না।
সাঘরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ওয়াজেদ আলি, ২০০৭-৮ অর্থ বছরে আগর গাছের বাগান করা হয়েছিল। বন বিভাগ বলেছিল এগুলো থেকে বহু টাকা আয় হবে। তখন বন বিভাগের সাথে আমাদের দলিলের মাধ্যমে চুক্তিনামা করা হয়েছিল। সেখানে ১০ বছরের মেয়াদ ছিল গাছের। কিন্তু এখন ১২-১৩ বছর পার হচ্ছে কিন্তু গাছের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। প্রথম দিকে বন বিভাগ আগর গাছের বিষয়ে খোঁজ খবর নিলেও কয়েক বছর হল তারা খোঁজ নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, ওই জমিতে অন্যান্য গাছ, বিভিন্ন সবজি বা ফলের চারা লাগালে অনেক লাভবান হতে পারতাম কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি আমরা। আগর গাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন কষ বের হতে দেখি নাই। এ বিষয়ে কোন উদ্যোগও নেয়নি বন কর্তৃপক্ষ। তবে গাছগুলো যদি প্রক্রিয়াজাত বা বাজারজাত করে একটা বিধি ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এখান থেকে একটা লাভের আশা দেখা যায়। এভাবে যদি বছর বছর ধরে আগর বাগানেই পড়ে থাকে তাহলেতো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে।
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, মধুপুর ও ঘাটাইল অঞ্চলে সরকারি আগর প্রকল্পের যে আগর গাছের বাগান রয়েছে সে গাছ এখনও পরিপক্ক হয়নি। তাদের আরো ৫-৬ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এখনও আগর প্রক্রিয়াজাত করার অবস্থা হয়নি। যখন আগর প্রডাকশন হবে তখন তারা বলতে পারবে যে তারা লাভবান হয়েছে বা হয়নি।
