নজর২৪ ডেস্ক- কথার যাদুতে বশ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। মিথ্যা আশ্বাসে আস্থা রেখে, জীবনের শেষ সম্বলটুকু খুইয়ে এখন নিঃস্ব লাখ লাখ মানুষ। বলছি এমএলএম কম্পানি ডেসটিনি’র কথা। কার্যক্রম বন্ধের প্রায় ১০ বছর পর আবারও আলোচনায় এই প্রতিষ্ঠান। সমবায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে অনুমোদনও দিয়েছে সমবায় অধিদফতর। এমএলএম ব্যবসাও করতে চায় ডেসটিনি।
কিন্তু মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে যে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, সম্পদ তার চেয়েও অনেক কম। নিরীক্ষায় প্রমাণ মেলায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তারা এখনও জেলে, আর টাকার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বিনিয়োগকারী।
দীর্ঘদিন পর আবারও মাঠে নেমেছে বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি। এরই মধ্যে ‘ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ পরিচালনায় কমিটির অনুমোদন দিয়েছে সমবায় অধিদফতর। নতুন কমিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লে. জে. অব. এম হারুন অর রশিদ। শুধু সমবায় কার্যক্রমই নয়, এমএলএম ব্যবসাও চালু করতে চায় এই কমিটি।
ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লি. সহ-সভাপতি জাকির হোসেন কিসলু বলেন, আমরা মাত্র অনুমোদন পেয়েছি। এখন আমাদের সকল কমিটি বসবে, বিভিন্ন ইস্যু আলোচনা হবে। এছাড়াও আমাদের ব্যাংক হিসেবগুলো পুনরায় চালু করতে হবে, আদালতে আবেদন করতে হবে। সবশেষে আমরা আমাদের অবস্থান সরকারকে জানাবো। তখন যদি সরকার বলে শুরু করা যাবে এরপরই শুরু হবে।
সমবায় অধিদপ্তরের যুগ্ম নিবন্ধক মোহাম্মদ হাফিজুল হায়দার চৌধুরী বলেন, সমবায় থেকে নিবন্ধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে ডেসিটিনি। তিনি বলেন, ডেসটিনি কো-অপারেটিভে কোনো সমস্যা হয়নি। যে ১২ জন নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ জন্য তারা আবার নিবন্ধন নিয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারবে।
সমবায় বিশেষজ্ঞ এমদাদ হোসেন মালেক বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলএমএম কোম্পনি লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডেসটিনি আবার কোন ফর্মে নিবন্ধন করে ব্যবসা করবে? আগে যে কযেক হাজার কোটি টাকা গ্রাহকের পকেট থেকে বের করে নিয়েছে, তারা তো এখনও টাকা ফেরত পায়নি।’
কমিটি অনুমোদন দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর
গত ২৮ জুন ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নতুন কমিটির অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সমবায় অধিদপ্তর। ১২ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল এম হারুন অর রশিদ (অব.)। সহ-সভাপতি হয়েছেন মো. জাকির হোসেন, আর সম্পাদক হয়েছেন আজম আলী।
নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৭ মে সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪-এর ২৬(২) বিধি অনুসারে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিটি গঠন করা হয়। ১২টি পদের বিপরীতে ২৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে পরে ১৩ জন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। ফলে সীমিত ব্যবস্থাপনা কমিটির ১২টি পদে ১২ জন প্রার্থীই থাকেন। একই পদের বিপরীতে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সবাই।
নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ পদে একজন করে এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি সদস্য হিসেবে ৭ জনসহ মোট ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
কার্যক্রম শুরু করেছে ডেসটিনি
দীর্ঘদিন পর আবার অনুমোদন পেয়ে নড়চেড়ে বসেছে ডেসটিনি। এতোদিন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় তৈরি হয় স্থবিরতা। ডেসটিনির মালিকানাধীন সকল সম্পদ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে হলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কাকরাইল মোড়ে আলিস টাওয়ারের কয়েকটি ফ্লোরে সীমিত পরিসরে কাজ শুরু করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব পাওয়া সকলেই প্রতিদিন ওই অফিসে বসছেন। অফিস চালু হবার খবরে বিনিয়োগকারী অংশীদাররাও আসতে শুরু করেছে।
রাজধানীর কাকরাইলের মাহতাব প্লাজায় ডেসটিনির যে তিনটি অফিস ছিল, সেই অফিসগুলো এখন বন্ধ। এতোদিন চালু থাকলেও কয়েকদিন আগে পুলিশ অফিস গেইটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। কো-অপারেটিভের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি অফিস নিয়ন্ত্রণে নেবার চেষ্টা করছে।
জানা গেছে, ডেসটিনির যে সব সম্পত্তি এখন পুলিশের জিম্মায়, সেগুলো এই কমিটির নিয়ন্ত্রণে নেবার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মাল্টিপারপাসের নামে থাকা সম্পত্তি নিতে চায় কমিটি।
গ্রাহকের হা-হুতাশ
কেউ দিয়েছে হাজার, কেউ লাখ লাখ টাকা। কোটি টাকাও দিয়েছে অনেক পরিবার। দশ বছর আগের দেয়া সেই টাকার জন্য আক্ষেপ এখনও স্পষ্ট। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ বা অপ্রকাশ্যে চাহিদা তুলে ধরছেন। কিন্তু কোথায় গেলে মিলবে টাকা, তা কেউ জানে না।
ডেসটিনির অফিসে অফিসে এখনও খোঁজ নেন গ্রাহকরা। কবে চালু হবে, বিনিয়োগকৃত টাকার কোনো হদিস কি মিলেবে? কিন্তু কোনো সদুত্তর নেই। সমবায় অধিদপ্তর থেকে নতুন কমিটি করে দেবার পর আলিস টাওয়ারে গ্রাহকদের ভীড় বাড়ছে।
