Home প্রধান খবর ইউনিয়ন ব্যাংকের সেই ১৯ কোটি টাকার হদিস মিলেছে, ৩ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

ইউনিয়ন ব্যাংকের সেই ১৯ কোটি টাকার হদিস মিলেছে, ৩ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

0
140

নজর২৪ ডেস্ক- ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হওয়ার যে খবর এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্যাংকটির উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হাসান ইকবাল। জানিয়েছেন, ব্যাংককের একজন ভিআইপি গ্রাহককে দেয়া হয়েছে এই টাকা।

 

গুলশানে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন হাসান ইকবাল। এ ঘটনায় ব্যাংকের গুলশান শাখার তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

হাসান ইকবাল বলেন, ‘ব্যাংকিং আওয়ারের পর একজন ভিআইপি গ্রাহককে ঐ টাকা দেয়া হয়েছিল। ব্যাংকিং রুলস ভায়োলেট হলেও এমন ঘটনা নতুন নয়। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কে এমন লেনদেন হয়।’

 

তবে কে এই ভিআইপি গ্রাহক এবং তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখিয়ে এই টাকা নিয়েছেন কিনা, এ বিষয়ে কিছু জানাননি হাসান ইকবাল।

 

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান ব্যাংকের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বলেন, ‘ঘটনায় ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখার তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলের উপস্থিতিতেই ১৯ কোটি টাকার হিসাব সমন্বয় করা হয়।’

 

এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার বলেন, ব্যাংকটির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যাংকটি জানিয়েছে, ব্যাংকিং সময় শেষ হওয়ার পর একজন গ্রাহককে ভল্ট খুলে ১৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ে ব্যাংকের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হিসাবটি সমন্বয় করা যায়নি। ওই গ্রাহককে ভিআইপি গ্রাহক বলে দাবি করছে ব্যাংকটি।

 

গত ২০ সেপ্টেম্বর সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পরিদর্শক দল বেসরকারি খাতের ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা পরিদর্শনে যায়। নিয়ম অনুযায়ী শুরুতেই পরিদর্শক দল ভল্ট পরিদর্শন করেন তারা। কাগজে-কলমে শাখার ভল্টে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হলেও সেখানে ১২ কোটি টাকা পান পরিদর্শক দলের সদস্যরা।

 

তাৎক্ষণিক বাকি টাকার বিষয়ে ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে জানা যায়। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন তৎপরতা শুরু করে শাখা কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি পক্ষও এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়।

 

প্রতিদিন লেনদেন শেষে ও দিনের শুরুতে ভল্টের টাকা মিলিয়ে রাখার দায়িত্ব শাখার ব্যবস্থাপক, সেকেন্ড অফিসার এবং ক্যাশ ইনচার্জের। ভল্টে টাকার হিসাবে কোনো গরমিল হলে তা মিলিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও এ কর্মকর্তাদের। অনেক সময় হিসাবের ভুলে সামান্য টাকার গরমিল হতে পারে। তবে এত বড় অঙ্কের টাকার গরমিল হলে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

এক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে অজানা কারণে এ ঘটনায় এখনো কাউকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়নি। এমনকি থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি পর্যন্ত করেনি ব্যাংক।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here