বিনোদন ডেস্ক- বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলায় প্রেজেন্টার হিসেবে চাকরি দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন ইভা রহমান। একটা সময় চ্যানেলটির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে মন দেয়া নেয়া। তারপর বিয়ে। এরপর থেকে সুখেই সংসার করে আসছিলেন।
বিভিন্ন সময় সে সুখের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের সেই সংসার ভেঙে গেছে বেশ কিছু দিন আগেই। ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেছেন গায়িকা ইভা রহমান। শুধু তাই নয়, নতুন করে ঘরও বেঁধেছেন তিনি। তার নতুন স্বামীর নাম সোহেল আরমান। আর এই বিয়ের পরই নিজের পুরনো পদবি মুছে ফেলেছেন। এখন থেকে নিজেকে ইভা আরমান বলেই দাবি করছেন তিনি।
সোমবার কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে ইভা রহমানকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য শুভ কামনা জানান। এই পোস্টের মাধ্যমেই এটিএন বাংলার চেয়ারম্যানের সংসার ভাঙার খবর প্রথম গণমাধ্যমে আসে।
এরপর ইভার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চলতি বছরের ৪ জুন আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ডিভোর্সের সার্টিফিকেট হাতে পাই। ১৯ সেপ্টেম্বর আমি নতুন করে বিয়ে করেছি।
ইভার নতুন স্বামী সোহেল আরমানের সাথে পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি এক জাতীয় দৈনিককে বলেন, পরিচয়টা হয়েছে খুবই সিম্পলি। একটা মানুষের সাথে আরেকটা মানুষের যেভাবে পরিচয় হয় সেভাবেই। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই কিংবা সে আমাকে অনেকদিন ধরে চেনে-ব্যাপারটা ওই রকম কিছু না। এক অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। শুরুতে ওই রকম খুব বেশি কথা হত-তা না, পরে একটা সময় ফোনে একটু বেশিই কথা হত। সে আমার সম্বন্ধে জানতে চাইত। আমি আমার লাইফ সম্বন্ধে বলেছি। তার লাইফ সম্বন্ধে শুনেছি। তখন মনে হয়েছে, আমাদের মন-মানসিকতা প্রায় একই রকম; আমরা একসাথে ভালো থাকব।
তার চেয়ে বড় কথা হল- আমার ছেলে মারুফকে ও অনেক ভালোবাসে, ছেলেও ওকে অনেক ভালোবাসে। দু’জনের মধ্যে বন্ডিংটা সবচেয়ে বেশি জরুরি ছিল। আমি সবসময় সেকেন্ড কিছু ভাবতে ভয় পেতাম। কিন্তু আমি যখনই ফিল করলাম, মারুফের প্রতি ওর আলাদা সখ্যতা আছে তখন ভয় কেটে গেছে। ফেইসবুকে পোস্ট করা ছবিগুলোতে দেখবেন আমার ছেলেও পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছে। ছবিগুলোও আমার ছেলেই তুলেছে। তার আগে আমি আরেকটা বিষয় কথা বলতে চাই।
মাহফুজুর রহমানের সাথে সম্পর্ক ভাঙ্গার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে জানে কি না- তা আমি জানি না। ২০০৩ সালে মাহফুজুর রহমানের সাথে আমার বিয়ে হয়। ২০০৬ সালে আমাদের ছেলে মারুফের জন্ম হয়। ও এখন ক্লাস নাইনে পড়ে। ২০১২ থেকে আমরা আলাদা থাকা শুরু করি। আমি আর আমার ছেলে গুলশানের বাসায় থাকতাম। আর উনি (মাহফুজুর রহমান) বনানীর বাসায় থাকতেন। সবশেষ ৯ বছর ধরে আমরা আলাদা থাকছিলাম।
‘এক সময় আমার মনে হল-এভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় কোনো সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না। ৯ বছরে আমি সম্পর্কটা ঠিক করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই দিক থেকে কোনো সাড়া পাইনি। এক সময় মনে হয়েছে, আমার একটা সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। চলতি বছরের ৪ জুন ডিভোর্সের পেপার সাবমিট করি। ১৭ সেপ্টেম্বর ডিভোর্সের সার্টিফিকেট হাতে পাই। ১৯ সেপ্টেম্বর ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করি।’
উল্লেখ্য, এটিএন বাংলায় সংবাদ পাঠক হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করেছিলেন ইভা। তখনই এর চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। সেই সম্পর্ককে পূর্ণতা দিয়ে ২০০৩ সালে তারা বিয়ে করেন। নিউজ প্রেজেন্টারের পাশাপাশি গায়িকা হিসেবেও পরিচিতি পান ইভা। তার গাওয়া গানের প্রায় ৩০টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।
