ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের প্রস্তুতি বিএনপির

নজর২৪ ডেস্ক- আগামী ডিসেম্বর থেকে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপিসহ বিরোধী দলের গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি দাবি সামনে রেখে এ আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে দলটি।

 

এসব দাবির সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করা সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও পেশাজীবীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে কিংবা যুগপৎ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত রয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের।

 

বিএনপি নেতারা বলছেন, আন্দোলনের মতো কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে দ্রুত সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ঐকমত্যে আসতে চায় দলটি। এ ক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে অটুট রেখে ডান-বামসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল, সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করতে চাইছে তারা। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দ্বিতীয় দফায় আজ মঙ্গলবার থেকে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক হবে দলের হাইকমান্ডের।

 

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিশেষত. আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার অধীনে তো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিএনপির বিগত বৈঠকে এসব বক্তব্য উঠে এসেছে। সেখানে নেতারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের মতামত দিয়েছেন। বৈঠকে দেওয়া তাদের এসব বক্তব্যই বিএনপির দলীয় বক্তব্য।

 

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বেশ কয়েক নেতা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে এ নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। বিএনপি ইসির পুনর্গঠন ইস্যুতেই প্রথমে মাঠে নামার চিন্তা করছে। এ জন্য দলীয় প্রস্তাবনা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

 

বিএনপি বলছে, সার্চ কমিটিই হোক আর আইন করেই হোক; এ সরকারের অধীনে সব নির্বাচন কমিশনই হবে আজ্ঞাবহ। তাই নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করতে হবে।

 

বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতা ডিসেম্বরে আন্দোলনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘সামনে রাজপথের আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত যেসব নেতা মাঠে থাকবেন না, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *