১০ হাজার টাকায় চাঁদে জমি কিনলেন দুই বাংলাদেশি তরুণ!

নজর২৪ ডেস্ক- চাঁদে জমি বাণিজ্যের খবর নতুন কিছু নয়। বাস্তবে চোখে না দেখলেও পশ্চিমাদের অনেকেই হুজুগে পড়ে কাড়ি কাড়ি অর্থ গচ্ছা দেন পৃথিবীর উপগ্রহটির ভূমি কিনতে। এই তালিকায় আগে কখনও বাংলাদেশি কারও নাম শোনা গেলেও এবার দেশের দুই তরুণ চাঁদে জমি কিনেছেন বলে খবর চাউর হয়েছে।

 

এই দুই তরুণের একজন শেখ শাকিল হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। অন্যজন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম শাহিন আলম। তারা দুজনই বন্ধু। দুজনের বাড়িই সাতক্ষীরা।

 

চাঁদের জমির কথিত বিক্রেতা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ডেনিস হোপের ‘লুনার অ্যাম্বাসি’ থেকে তারা এক একর আয়তনের চন্দ্রভূমি মাত্র ৫৫ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র প্রায় পাঁচ হাজার টাকা) কিনেছেন বলে দাবি করেছেন। অর্থাৎ তারা দুজন মাত্র ১১০ ডলারে দুই একর জমি কিনেছেন চাঁদে।

 

শাকিল ও শাহিনের দাবি, বুধবার তারা চাঁদে কেনা সেই জমির দলিল হাতে পেয়েছেন। চাঁদের মানচিত্রেও উল্লেখ রয়েছে তাদের জমির নির্ধারিত স্থান।

 

 

চাঁদে জমি কেনার বিষয়ে শাহিন আলম বলেন, ‘মঙ্গলগ্রহ এবং চাঁদে জমি কিনতে পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম নিউজ পড়েছি। সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন মঙ্গলগ্রহে জমি কিনেছেন বলে জানতে পারি। আমরা দুই বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করি, চাঁদে জমি কেনার। বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অনেক নামিদামি তারকাও চাঁদে জমি কিনেছেন।

 

চাঁদে আমাদের জমি থাকবে, এমন শখ থেকেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। আজ আমাদের জমির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লুনার অ্যাম্বাসি। এর আগে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদের জমি কিনেছেন সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, জিমি কার্টার ও রোলান্ড রিগ্যান। সেই প্রতিষ্ঠানের মালিক ডেনিস হোপের কাছ থেকেই জমি কিনেছি আমরা। জানামতে, আমরাই প্রথম বাংলাদেশি যারা চাঁদে জমি কিনেছি। কল্পনার রাজ্যে এক টুকরো জমি কিনতে পেরে আমরা দারুণ উচ্ছ্বসিত।’

 

চাঁদে কবে যাবেন- জবাবে তিনি বলেন, ‘শখের বসে কিনেছি। তবে সেখানে বসবাসের উপযোগী কি-না জানি না। যাওয়ার সুযোগ থাকলে যাবো।’

 

আরেক ক্রেতা শেখ শাকিল হোসেন বলেন, ‘চাঁদের দেশে বিভিন্ন দামে বিভিন্ন পজিশনে জমি কিনতে পাওয়া যায়। আমরা দুই বন্ধু কম দামি জমি কিনেছি। মালয়েশিয়ান প্রবাসী এক বড় ভাইয়ের কার্ডের মাধ্যমে ৫৫ ডলার পরিশোধ করেছি। তবে যাওয়ার সুযোগ থাকলে দুই বন্ধু সেখানে গিয়ে বসবাস করার ইচ্ছা আছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদে জমি কেনার জন্য মার্কিন নাগরিক ডেনিস হোপের লুনার অ্যাম্বাসিই হলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। যার বাংলা অর্থ চন্দ্র দূতাবাস।’

 

তাদের তথ্যানুযায়ী, চাঁদে জমির দাম প্রতি একর ২৪.৯৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৪৯৯ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২১২৫ টাকা থেকে ৪২৪৩৭ টাকা।

 

জানা গেছে, জমি কেনার পর ক্রেতাকে একটি বিক্রয় চুক্তি, কেনা জমির একটি স্যাটেলাইট ছবি এবং জমিটির ভৌগলিক অবস্থান ও মৌজা-পর্চার মতো আইনি নথিও পাঠিয়ে থাকে সংস্থাটি। এছাড়া, কেউ যদি বেশি ব্যয় করতে রাজি থাকে, তাহলে তাদের জন্য চাঁদের সম্পূর্ণ মানচিত্র এবং অন্যান্য তথ্যও সরবরাহ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *