বিনোদন ডেস্ক- ‘আর কোনো দিন মিডিয়ার মেয়ে বিয়ে করবো না।’ চাপা ক্ষোভ বা অভিমানের সঙ্গেই কি কথাটি বললেন অপু? মাহির সঙ্গে ডিভোর্স, এরপর আজ জানা গেলো মাহির দ্বিতীয় বিয়ের খবর। খবরটি শোনার পর এভাবেই গণমাধ্যমের কাছে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাহির প্রাক্তন স্বামী অপু।
অপু আরো বলেন, ‘এরপর বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করবো। তাদের পছন্দে সুখ-শান্তি বেশি।’
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে- তাহলে কি অপু-মাহির সংসার সুখের ছিল না? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটু অবাক হতে হয় বৈকি! এ কথা আজ সবাই জানেন, মাহিকে ভালোবেসে বিয়ে করেন সিলেটের অভিজাত পরিবারের সন্তান পারভেজ মাহমুদ অপু।
মাহি একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন এই প্রেমের শুরু হয়েছিল তার পক্ষ থেকে। প্রেমে সাড়া দিয়েছিলেন অপু। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন দুজন। অপুর মা মিডিয়ায় কাজ করা পছন্দ না করলেও বৌমার ইচ্ছেকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এতে সমর্থন যুগিয়েছেন অপু। এক সময় মাহি শ্বশুরবাড়ির সবার প্রিয় হয়ে ওঠেন।
বিশেষ করে অপুর বড় চাচা ও বাবার কলিজার টুকরো ছিলেন মাহি- এমন কথা চলচ্চিত্র পাড়ার অনেকেই জানেন। এদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই চলচ্চিত্রে সবার কাছে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন অপু। সিলেটে তাদের বাড়িতেও গিয়েছেন ওমর সানি, মৌসুমী, রিয়াজ, সাইমন, সিয়ামসহ অনেকেই।
ফলে ধরেই নেয়া হয়েছিল মাহি-অপুর সংসারে বইছে সুখের বাতাস। কিন্তু হঠাৎ এমন ঝড় কেন উঠলো যে, মাহি-অপু দুজনেই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিলেন? এ প্রসঙ্গে দুজনের কেউই মুখ খোলেননি। এর পরেই দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাহি। পাত্র গাজীপুরের তরুণ রাজনীতিক-ব্যবসায়ী রাকিব। আজ দুজনের বিয়ের বিষয়টি মাহি ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিশ্চিত করেছেন।
মাহির বিয়ের খবরে অপু অভিনন্দনও জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিয়ের খবর শুনেছি আগেই। আজ ফেইসবুকে দেখলাম। আমার অভিনন্দন জানিয়ে দেবেন। তার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইলো।’
‘আমার পরিবারের মান-সম্মান অনেক বড়। এ ব্যাপারে আমি আর কথা বলতে আগ্রহী নই। আমি খুব সাধারণ মানুষ, সাধারণভাবেই জীবন-যাপন করতে চাই।’ যোগ করেছেন অপু।
রাকিব-মাহির সম্পর্কের বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে অপু বলেন, ‘ডিভোর্সের আগে রাকিবকে মাহি ফ্রেন্ড বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল।’
সিলেটের ব্যবসায়ী পারভেজ মাহমুদ অপুকে ভালোবেসে ২০১৬ সালে বিয়ে করেন মাহি। চলতি বছরের মে মাসের দিকে অপুর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্তের কথা জানান মাহি। আইনি প্রক্রিয়ায় ‘মিউচুয়ালি’ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় ‘ভালোবাসার রঙ’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে রাজশাহীর মেয়ে মাহির। পরবর্তীতে ‘অগ্নি’ ‘কী দারুণ দেখতে, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘অনেক সাধের ময়না’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
