Home আলোচিত সৎ মায়ের যৌন নির্যাতন, মারা গেল প্রবাসীর আড়াই বছরের মেয়েটি

সৎ মায়ের যৌন নির্যাতন, মারা গেল প্রবাসীর আড়াই বছরের মেয়েটি

0
221

নজর২৪, গাজীপুর- সৎমায়ের নির্যাতনের শিকার আড়াই বছর বয়সী শিশু মরিয়মকে বাঁচানো গেল না। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় সে।

 

মরিয়মের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশুটির চাচা বাবু। তিনি হাসপাতালে শিশুটির দেখাশোনা করতেন।

 

তিনি বলেন, নির্যাতনে পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে সংক্রমণ তৈরি হয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছিল মরিয়মের পুরো শরীরে। চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচারও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না।

 

শিশু মরিয়ম আক্তার ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বাঁশিয়া গ্রামের মোস্তফা কামালের মেয়ে। মোস্তফা কামাল শ্রীপুর পৌরসভার বেরাইদেরচালা গ্রামে ১৪ শতাংশ জমি কিনে বহুতল ভবন গড়ে তোলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দুবাইপ্রবাসী। মরিয়ম তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান। পরে দুবাইপ্রবাসী আলিফা আক্তার রিপার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে শিশুটির চার মাস বয়সেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয় তার। এ সময় আলিফা আক্তারকে বিয়ে করে দ্বিতীয় সংসার শুরু করেন মোস্তফা কামাল।

 

দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেই থাকত শিশু মরিয়ম। কয়েক মাস আগে মোস্তফা কামাল দুবাই চলে যান। পরে নিজ নামের এই বাড়িটি লিখে নিতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন শুরু করেন সৎমা আলিফা। তিনি বিভিন্ন রাসায়নিক প্রয়োগ করে শিশুটির পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে দেন। পরে অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।

 

এ ঘটনায় শিশুটির দাদা বাদী হয়ে তার সৎমায়ের বিরুদ্ধে গত ১২ আগস্ট শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পরে তা মামলায় রূপান্তর হয়। গত ১৫ আগস্ট অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

 

অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপা (৩০) মাগুরা জেলার সদর উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের রজব আলী বিশ্বাসের মেয়ে।

 

শিশুটির দাদা আফাজ উদ্দিন জানান, তার দ্বিতীয় পুত্রবধূ একটু উগ্র প্রকৃতির। সে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অঘটনের চেষ্টা করেছে। তার ছেলে প্রবাসে চলে যাওয়ায় নাতনি মরিয়মকে নিয়ে আলিফা এই বাসায়ই থাকত। শিশুটিকে দাদা-দাদির কাছে যেতে দিত না। এ বাসাটি নিজের নামে লিখে নিতে আলিফা নানা ধরনের ফন্দি করতে থাকে। গত ১১ আগস্ট ওই বাসায় গেলে দেখা যায় মরিয়ম খুব অসুস্থ। তার পায়ু ও যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত। এ সময় আলিফাকে জিজ্ঞেস করলে সে একেক সময় একেক কথা বলতে থাকে। এরপর মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

তিনি আরো বলেন, এর আগেও কয়েকবার মরিয়মকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে আলিফা। সে সময় তারা বিভিন্নভাবে সতর্ক করছিল তাকে। এর পরও তাদের কথা না শুনে শিশুটিকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার সৎমায়ের।

 

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ইতোমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর খবর তিনি পেয়েছেন। এখন নিহতের ময়নাতদন্ত করা হবে। সে অনুযায়ী দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here