ভেঙে পড়ার মেয়ে আমি না: পরীমণি

বিনোদন ডেস্ক- টানা ২৭ দিন কারাগারে থাকার পর বুধবার মুক্তি পেয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি। কারাগার থেকে সরাসরি বাসায় ফিরেছেন এ নায়িকা। ফেরার পরই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

 

বাসায় ফিরে কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

কোনো অনুভূতি নেই। অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছি। আমার যে রেগুলার লাইফ, সে লাইফ তো ছিল না। পুরোপুরি অন্য একটা জীবন। যে জীবনের কথা অন্য একদিন বলব। এ ২৭ দিনের জার্নি আমাকে অনেককিছু শিখিয়েছে।

 

এখন শারীরিকভাবে কেমন আছেন?

আমি আসলে বুঝতে পারছি না, কেমন আছি। তবে আমার কিছুদিন বিশ্রাম দরকার, এটা মনে হচ্ছে।

 

কাজে ফেরার বিষয়ে পরিকল্পনা কী?

কাজ নিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলিনি এখনও। মাত্রই তো এলাম। বাসায় এসে গোসল করলাম, খেলাম। তবে যত দ্রুত ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারব, ততই আমার জন্য মঙ্গল হবে। নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলব ভাবছি। দ্রুতই কাজে ফিরতে চাই।

 

বাসা ছাড়ার নোটিশ নাকি পেলেন?

হুম। বাসা ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বাসা ছাড়তে হবে।

 

কেন বাসা ছাড়ার নোটিশ?

নোটিশ কেন দেবে না, সেটা বলুন! গত কয়েক মাসে কতকিছুই তো ঘটল। বাসার মালিক এত কিছু সহ্য করেছে, এটাই কম কিসে। আমার বাসা হলে তো আমিই সহ্য করতে পারতাম না। বাসার গেটে ক্যামেরা তাক করা থাকে। এই র‌্যাব, পুলিশ। এ বাসায় তো আমি একা থাকি না। অন্য অনেকেই আছেন। আমার জন্য তো তাদের সমস্যা হয়। আমার জন্য তো অন্যদের সমস্যায় ফেলা ঠিক হবে না। সবাই তো আর ক্যামেরায় ইউজ টু না।

 

হাতে মেহেদি দিয়ে যে বার্তা লিখছেন, সেটা মূলত কাদের উদ্দেশ্যে?

এটা আসলে ‘বিচদের’ জন্য, যারা উপরে উপরে আমাকে ভালোবাসা দেখায়। এরা এখন আবার আমার কাছে আসবে। আমার চারপাশে ঘুরবে। আমাকে ভালোবাসা দেখাবে। তাদের উদ্দেশ্যেই এ বার্তা।

 

এসব মানুষ কি আপনার চেনা হয়েছে?

হ্যাঁ, খুব ভালোভাবেই চেনা হয়েছে। আসলে যারা আমাকে চেনেন, তারা কিছু বললে আমার খারাপ লাগে। যারা চেনেন না, তারা বললে কোনো খারাপ লাগে না। কারণ তারা তো আমাকে চেনেনই না। আমি কোথা থেকে এসেছি, কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছি, তার কিছুই তো জানেন না তারা। জানলে হয়ত আমাকে নিয়ে কটূ কথা বলতেন না। খারাপ লাগে, যারা জেনেও পেছনে কথা বলেন।

 

যে ক্রাইসিস গেল, তা উতরে সামনে এগোতে পারবেন?

আমি ভেঙে পড়ার মেয়ে না। ভেঙে পড়লেও উঠে দাঁড়াব আমি। আমাকে যারা চেনেন, তারা জানেন, আমি কেমন। আমি এখন দ্রুত কাজে ফেরার অপেক্ষা করছি।

 

গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাবের একটি দল। পরের দিন এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তারের কারণ জানানোর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়।

 

এই মামলায় তিন দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয় পরীমনিকে।

 

গ্রেপ্তার হওয়ার ২৬ দিন পর মঙ্গলবার পরীকে জামিন দেয় আদালত। আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের হাতে যেতে যেতে সময় লেগে যায়। বুধবার সকালে মুক্তি মেলে তার।

 

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে একটি ছাদ খোলা সাদা গাড়িতে করে পরীমনি সোজা চলে আসেন তার আপন নিবাস বনানীর সেই ফ্ল্যাটে। কিন্তু এই নিবাসটি আর আপন থাকছে না।

 

বিষয়টি নিয়ে পরীমনি কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সঙ্গেও। তিনি এই নোটিশ পেয়ে যে নাখোশ, সেটি জানিয়েও দিলেন। বলেন, ‘কারাগার থেকে ঘরে ঢোকার পর বাসা ছাড়ার নোটিশ দেখতে পেলাম। এখন কি তাহলে আমার বসবাসের অধিকারটা পর্যন্ত কেড়ে নিচ্ছে ওরা? ওরা যা চেয়েছিল, তা-ই কি হচ্ছে? আমি কি তাহলে ঢাকা ছেড়ে চলে যাব, নাকি দেশ ছেড়ে চলে যাব?’

 

তিনি বলেন, ‘আমি তো একা থাকি না। আমার বয়স্ক নানুভাই আছেন। হঠাৎ করে এসব কী! হঠাৎ করে কই যাব, সেটা কি কেউ বলতে পারেন?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *