নজর২৪ ডেস্ক- সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলায় ফাঁসির রায় শুনেও দণ্ডিতদের যে প্রতিক্রিয়া তাতেই তাদের বেপরোয়া মনোভাবের বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রাণদণ্ডের রায় শুনে নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে হাউমাউ করে কান্নাকাটির ঘটনা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে এই হত্যা মামলার আসামিরা রায় শুনে হেসেছেন, উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান মোট ছয় জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন, যাদের মধ্যে চার জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আর দুই আসামি ছিলেন পলাতক।
আদালতে উপস্থিত থেকে রায় শুনেছেন মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, শেখ আব্দুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ।
চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ পলাতক।
রায়ে বলা হয়, দণ্ডিত ছয় আসামির সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আর ইসলামের সদস্য হিসাবে জুলহাজ ও তনয়কে হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
“সেজন্য ৬ আসামিকে একই সাজা দেয়া বাঞ্ছনীয় হবে। আসামিরা বেঁচে থাকলে আনসার আল ইসলামের বিচারের বাইরে থাকো সদস্যরা একই অপরাধ করতে উৎসাহী হবে। কাজেই উক্ত আসামিরা কোনো সহানুভূতি পেতে পারে না।”
রায় ঘোষণার সময় চার আসামিকেই আদালতে হাসাহাসি করতে দেখা যায়। রায় শোনার পরও বেপরোয়া ছিল তাদের মনোভাব। আরাফাত বলেন, ‘এই তাগুতি বিচার ব্যবস্থা আমাদের পায়ের নিচে।’
আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। এই রায়ে আমরা সফল। আমরা আখেরাতে সফল হব।’
দেশে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলার মধ্যে ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে প্রবেশ করে ইউএসএইড কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১২ মে জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম। এরপর গত বছরের ১৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। নয় মাসের মাথায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা হল।
বেলা ১২টার টার দিকে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময়ই মুখে হাসি নিয়ে নামছিলেন চার জন। আদালতে ঢোকা থেকে রায় ঘোষনা শেষে আবার প্রিজন ভ্যানে ওঠানোর সময় পর্যন্ত তাদের মুখে হাসি দেখা যায়।
কাঠগড়ায় থাকা অবস্থায় হাতকড়া পরিয়ে রাখা নিয়ে প্রশ্ন করলেন জঙ্গিরা। জঙ্গি আব্দুল্লাহকে দেখা যায় হাত পিছনে দিয়ে হাতকড়া পরানো অবস্থায়।
তখন তিনি সেটা খুলে দিতে বলেন। কিন্তু পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে খুলতে রাজি না হলে জঙ্গি আরাফাত উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উদ্দেশ্য বলেন, ‘জঙ্গিদের কি কোনো মানবাধিকার নেই। মানবাধিকার কি শুধু আপনাদের জন্য। আপনারাই মানবাধিকারের কথা বলেন, আমরা বলি না।’
