বিনোদন ডেস্ক- ভারতীয় টিভি চ্যানেল জি বাংলার ‘সারেগামাপা’ রিয়্যালিটি শোয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান মাইনুল আহসান নোবেল। তার দরাজ কণ্ঠের গায়কী মুগ্ধ করে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের। কিন্তু সেই মুগ্ধতা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে এবং উদ্ভট সব কাণ্ড ঘটিয়ে কেবল নিন্দাই কুড়িয়েছেন।
কয়েক দিন আগে এক মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে ‘মাদক’ সেবনের ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন। এ নিয়ে নেটদুনিয়ায় শুরু হয় তোলপাড়। গুঞ্জন উড়ছে, পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন নোবেল। বান্দরবানে একটি হোটেলে মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ওই হোটেলে ভাঙচুরের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট বান্দরবানে যান নোবেল। তার সঙ্গে রয়েছেন একজন তরুণী। ওই তরুণীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বান্দরবান সদরের রুমা বাসষ্টেশন এলাকার গার্ডেন সিটি নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন তিনি। পরে ২৭ আগস্ট সকালে হোটেল থেকে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্য খেয়ে ঘুরতে থাকেন এবং উদ্ভট আচরণ করতে থাকেন।
ভ্রমণে এসে প্রকাশ্যে নেশাদ্রব্য পান করা ও এলাকার পরিবেশ নষ্ট করার কারণে এলাকার মানুষ নোবেলের ওপর ক্ষিপ্ত। শুধু বাইরেই নয়, রাতের বেলা হোটেলেও তিনি মদপান করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে শান্ত করতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। উল্টো হোটেলের এক অতিথির ওপর চড়াও হয়ে তার গায়েও হাত তোলেন নোবেল। এরপর হোটেলের মালিক মো. জাফর পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে নোবেলকে রাত ৩টা পর্যন্ত বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং ভোরে তিনি নিজের কক্ষে ঘুমাতে যান।
এ বিষয়ে হোটেলের মালিক মো. জাফর বলেন, ‘একজন সংগীতশিল্পীর এমন অসভ্য আচরণ খুবই খারাপ। শিল্পী হিসেবে তাকে আমি একটি রুম দিয়েছি, রুম ভাড়া নেওয়ার সময় তার সাথে এক নারী ছিল। সে তাকে প্রথমে স্ত্রী পরিচয় দেয়। পরে সে আবার তাকে বোন হিসেবে পরিচয় দিতে থাকে।’
এদিকে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন নোবেলের স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ। এ সময় তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, যে মেয়ের সঙ্গে নোবেল বান্দরবানে গিয়েছেন তাকে আপনি চিনেন কিনা?
জবাবে সালসাবিল মাহমুদ বলেন—‘এই মেয়েটির নাম জেবা। এর আগেও মেয়েটির সঙ্গে তোলা ছবি নোবেল আপলোড করেছিল। জেবা একজন এয়ার হোস্টেস। চাকরির আড়ালে মেয়েটা বিভিন্ন স্থানে মাদক আনা-নেওয়া করে। নোবেল-জেবা দুজনেই মাদকাসক্ত। তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করে।’
অন্যদিকে নোবেল-সালসাবিলের দাম্পত্য জীবনে তৈরি হয়েছে টানাপড়েন। এ বিষয়ে সালসাবিল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিবাহিত কিন্তু একসঙ্গে থাকি না। মাদক সেবন, নারীঘটিত কারণেই মূলত নোবেলের সঙ্গে থাকি না। একের পর এক এরকম ঘটনা হলে একজন মানুষের সঙ্গে থাকা যায় না। মাদক বা নারীর প্রতি নোবেলের আসক্তি যে পর্যায়ে গেছে তা এখন আর কারো অজানা নয়। সবকিছু সবার সামনেই ঘটছে।’
সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে নোবেল-সালসাবিলের পরিচয়। পরবর্তীতে তা রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। আড়াই মাস সম্পর্কে থাকার পর ২০১৯ সালের ১৫ নভেম্বর বিয়ে করেন তারা।
