বিনোদন ডেস্ক- ঢাকাই ছবির আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের তিন দিনের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তার সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করে। ওই সময় শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান জানিয়েছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল। সিনিয়রদের মধ্যে ইলিয়াস কাঞ্চন, উজ্জ্বল, সোহেল রানা ও আলমগীরের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ইলিয়াস কাঞ্চনের পরামর্শ একদমই কানে নেয়নি শিল্পী সমিতি। অন্যদিকে আলমগীরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথাই বলেনি কেউ। গণমাধ্যমের কাছে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন-
পরীমণির পাশে আছি : মুখ খুললেন জায়েদ খান
এদিকে, পরীমনির ইস্যুতে শোবিজ পাড়া যখন উত্তাল। ঠিক তখনই মুখ খুললেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফেরদৌস। বিচারাধীন একজন শিল্পী দোষী কিংবা নির্দোষ হওয়ার আগেই তার শিল্পী সমিতির সদস্য পদ স্থগিত করা দুঃখজনক ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ফেরদৌস বললেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। একজন শিল্পী বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। তার আগেই তাকে দোষী কিংবা নির্দোষ সাব্যস্ত করার অধিকার কারও নেই। সুতরাং পরীমনির শিল্পী সমিতির সদস্যপদ স্থগিত করা ঠিক হয়নি। যেহেতু পরীর বিচার আদালতে চলমান আছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হওয়ার পর, সমিতির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল বলে আমি মনে করি।’
একজন সিনিয়র অভিনয় শিল্পী হিসেবে ফেরদৌসের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা করা হয়েছিল কিনা? এ চিত্রনায়ক উত্তরে বলেন, এ ইস্যুতে তারা (শিল্পী সমিতি) আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। তাই কিছু জানতেও চাইনি।’
আরও পড়ুন-
সমিতির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ : পরীমণি ইস্যুতে মুখ খুলছেন জ্যেষ্ঠ শিল্পীরা
নজর২৪ ডেস্ক- মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে বন্দী রয়েছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণি। এই দুঃসময়ে তার সমর্থনে অনেকেই কথা বলছেন। রাজপথে মানবন্ধন করে পরীর মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন শোবিজ জগতের অনেকে। কিন্তু পাশে নেই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।
বরং গ্রেফতার হওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করে দেয় সমিতি। একটি সংবাদ সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনটির নেতারা। এ নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে- মামলায় অভিযুক্ত এই সমিতির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু পরীমণির সদস্যপদ ঠিকই স্থগিত করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত একা নেওয়ার কেউ নন তিনি। পরীমণির বিষয়ে সিদ্ধান্তটি কমিটির ২১ জন সদস্য মিলে নিয়েছেন। যাদের মধ্যে আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, সোহেল রানার মতো চলচ্চিত্রের জ্যেষ্ঠ শিল্পীরাও রয়েছেন।’
তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উল্টো কথা। বরং সিনিয়রদের নাম ব্যবহার করে অসত্য তথ্য দিয়েছেন তিনি। সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ শিল্পীর মতের প্রতিফলন হয়নি। এমনকি নায়ক আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগই করেনি সমিতির কেউ-ই।
বাংলা ছবির একসময়ের দর্শকনন্দিত এই নায়ক বেশ অপমানিতও বোধ করেছেন। বলেন, ‘এটা মোটেও ঠিক হয়নি। এটা সাম সর্ট অব সিনিয়রদের সঙ্গে বেয়াদবি করা। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করে আমার নাম ব্যবহার করেছে। আর আমি তো তাদের উপদেষ্টা কমিটিতে নেই। আমার নাম কেন ব্যবহার করা হলো জানি না।’
অন্যদিকে, ইলিয়াস কাঞ্চন ও উজ্জ্বল যে মত দিয়েছিলেন তা অগ্রাহ্য করে সমিতি। তাদের পরামর্শ ছিল, পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করাটা এখনই জরুরি নয়, সবকিছু দেখে-শুনে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
তবে জ্যেষ্ঠদের মধ্যে একজনই ছিলেন ব্যতিক্রম, ড্যাশিং হিরো সোহেল রানা বলে কথা! পরীমণির সদস্যপদ স্থগিতের পক্ষে মত দেন তিনি। তার মতে, মদসহ এমনভাবে আটক হওয়াটা এটি শিল্পী ও শিল্পের অপমান।
পুরো বিষয়টি নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মিশা সওদাগর আমাকে ফোন দিয়েছে। কিন্তু পরে যে কথাগুলো এসেছে এগুলো কিছুই আমি বলিনি। আর তাকে কী বলেছি- তা আর বলতে চাই না।’
বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশ ক্ষুব্ধ। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে তিনি নিষেধ করেছিলেন। তার ভাষ্যটা ছিল এমন, ‘একজন শিল্পীর নামে মাত্র অভিযোগ এসেছে। কোনও কিছুই প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগ যখন প্রমাণিত হয়নি, কী কারণে তোমরা সদস্যপদ স্থগিত করবা? স্থগিত করাটা ঠিক হবে না।’
পরে সংবাদ সম্মেলনের আগে সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর ইলিয়াস কাঞ্চনকে ফোন করে জানান, তারা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন।
প্রায় একই ধরনের বক্তব্য ছিল চিত্রনায়ক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যে কোনও অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব আছে। তবে আমি কোনও পক্ষে মত দেইনি। আমার মনে হয়েছে এতে তাড়াহুড়ো করার কিছু নাই। বলেছি, গো স্লো (ধীরে চলো)। ধীরে চলো, দেখো কী ঘটে। কিন্তু সেটা তো আর হলো না।’
কমিটির কোনও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সিনিয়র শিল্পীদের এমন নাম ব্যবহার করা যায় কিনা- জানতে চাইলে আলমগীর বলেন, ‘এটা মোটেও ঠিক হয়নি। অন্তত আমার সঙ্গে কথা না বলে আমার নাম ব্যবহার করেছে তারা। বিষয়টি অনলাইনে (বাংলা ট্রিবিউনে) দেখার পর মিশার সঙ্গে আমার কথা হয়। আমি বলেছি, এটা ঠিক হয়নি।’
এদিকে পরীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণার দিন বলা হয়েছিল সমিতির ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সঙ্গে এটাও জানান, প্রয়োজনে সহকর্মী হিসেবে পরীর পাশে থাকবেন তারা। চাইলে আইনগত নানা সহযোগিতা নিয়ে পরীর পাশে দাঁড়াবেন।
তবে আটক ও গ্রেফতারের ২০ দিন পার হলেও রাজপথ, আদালত বা জেলগেটে দেখা মেলেনি সমিতির কোনও নেতার।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। তিন দফা রিমান্ড শেষে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রয়েছেন তিনি।
