সবার দোয়া চাই, নতুন পথচলা যেন সুখের হয় : কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি

বিনোদন ডেস্ক- মাস খানেক ধরে শোনা যাচ্ছে তৃতীয় বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। কিন্তু হবু বরের নাম-পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। শুধু জানা যায়, তিনি একজন নামি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। পাশাপাশি ব্যবসাও করেন।

 

অবশেষে প্রকাশ পেয়েছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকার হবু স্বামীর পরিচয়। তিনি হলেন দেশের নামকরা অডিও প্রতিষ্ঠান এবং ইউটিউব চ্যানেল অনুপম মিউজিকের চিফ অপারেটিং অফিসার এবং গীতিকার মহসীন মেহেদী।

 

গত সোমবার ন্যান্সির সঙ্গে তার আংটি বদল হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে গায়িকা সেই খুশির খবর গণমাধ্যমকে জানিয়েও দিয়েছেন।

 

নতুন মহসীন মেহেদীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে আংটিবদল হওয়ার পর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি কথা বলেছেন একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে।

 

সাক্ষাৎকার তিনি বলেন, প্রথমেই সবার কাছে দোয়া চাই, নতুন করে পথচলা যেন সুখের হয়। আর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। কারণ শিল্পী বা ব্যক্তিজীবনের কোনো কিছু নিয়েই আমি কখনও কোনো রাখঢাক রাখি না, সবাইকে জানিয়ে দিই। আমি জানিয়ে দিয়েছিলাম জায়েদের সঙ্গে আলাদা থাকা এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার খবর। এখন আইনি প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন জীবন সাজানোর চেষ্টা করছি। এর মধ্যে ফেসবুকে মহসিন মেহেদীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও জানিয়ে দিয়েছি। কোনো লুকোচুরির আশ্রয় নিইনি।

 

ন্যান্সি বলেন, হাতে মেহেদি লাগিয়ে, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বিয়ে করব- এটা শুনে কেউ কেউ ভাবতেই পারেন, আমি মজা করছি। সে জন্যই হয়তো শুরুতে খবরটা বিশ্বাস করেননি। কিন্তু কেন আমার এমন ইচ্ছা, সেটাও কিন্তু বলে দিয়েছি। আমি প্রথম বিয়ে করেছি পালিয়ে। দ্বিতীয় বিয়ে করেছি ঘরোয়াভাবে। যে জন্য দুটি বিয়ে করলেও বউ সাজিনি। কেউ আমার গায়ে হলুদ দেয়নি। হাত মেহেদিতে রাঙাইনি।

 

বিয়ে মানে তো দুই হাত ভরে মেহেদি, গায়ে হলুদ দেওয়া। এখন তো বিয়ের আগে-পরে কত আয়োজন হয়! কিন্তু আমার কোনো বিয়েতে সাজসজ্জা ছিল না। এমনকি আমার বিয়ের কোনো ছবিও নেই। এ জন্য যতটা পারি অনুষ্ঠান করেই বিয়েটা করব বলে ঠিক করেছিলাম। সেটিই সবাইকে বলেছি, যা অনেকের অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। কিন্তু যারা আমাকে চেনেন, কাছে থেকে দেখেছেন; তারা মনে হয় না, আমার কথা অবিশ্বাস করেছেন। সে কারণেই গত সোমবার বেশ আয়োজন করেই আমরা আংটি বদল করেছি।

 

এ কণ্ঠশিল্পী বলেন, দোষ খোঁজার মানুষের অভাব নেই এ দেশে। তাই যারা দোষ খুঁজে বেড়ানোর মানুষ, তারা দোষ খুঁজেই বেড়াবেন। সংসার জীবনে বিচ্ছেদ মানেই মানসিক নিপীড়ন, পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের টিপ্পনি, সমাজের নোংরা কথা- আরও অনেক কিছু। কিন্তু নিজের ওপর ভরসা থাকলে এই কঠিন সময়টাও সহজ হয়ে যায়। আমার বেলায়ও তা-ই হয়েছে। দুটো মানুষ একে অপরের বিরক্তির কারণ না হয়ে বরং সম্মানের সঙ্গে আলাদা হয়ে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেছি এবং আলাদা হয়েছি। এটাও সত্যি যে, জীবনে হোঁচট খেলেও পথচলা থেমে থাকে না। নতুন করে এগিয়ে চলা শুরু করতে হয়। আমিও সেটি করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *