ইভ্যালি কিভাবে তৈরি হলো, নামের রহস্য কি?, সব জানা গেল

নজর২৪ ডেস্ক- বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের পর থেকে ইভ্যালি প্রসঙ্গ এখনো ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের আস্থা অর্জন করে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চায় বহুল আলোচিত ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানটি।

 

দেশে ই-কমার্সের প্রচলন খুব বেশি দিন না হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে ইভ্যালি দেশের ৭০ লাখেরও বেশি গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করেছে। শুধু তাই নয়, লকডাউন পরিস্থিতিতেও গত এক মাসে দুই লাখের বেশি পুরোনো অর্ডারের পণ্য সরবরাহ করেছে তারা।

 

তবে ব্যবসায়িক অবস্থান থেকে বর্তমানে ইভ্যালির সময় ভালো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতির উত্তরণে কিছু সময়ের প্রয়োজন। বর্তমানে যারা সরবরাহকারী, তারা যদি আশ্বস্ত হন, তাহলে ব্যবসার পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা যদি পণ্যের ব্যাপারে আশ্বস্ত হন তাহলে অর্ডার বেশি করে করবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগও বাড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।

 

এদিকে গ্রাহকদের নিরন্তর অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় থাকা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু হয়েছিল কিভাবে?, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ২ বছর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকার সামনে চলে এসেছে। ওই সাক্ষাৎকারে আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল।

 

জানা যায়, তিনি লেখাপড়া রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এইচএসসি শেষ করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যানে স্নাতকোত্তর। তারপর ২০১১ সালে ঢাকা ব্যাংকে চাকরি। মাঝখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ। ঢাকা ব্যাংকে ৬ বছর থাকার পর ছেড়েছেন চাকরি। এর মধ্যে টুকটাক ব্যবসা করার কাজে মনোযোগ থেকে বিগ অনলাইন শপিং মল ইভ্যালির উদ্যোক্তা।

 

শুরুটা বলুন।

মো. রাসেল: প্রথম বিজনেসটা শুরু হয় ডায়াপার বিজনেস দিয়ে। এরপর থেকে আস্তে আস্তে শুরু। ২০১৬ থেকে মূলত আমার ব্যবসাটা শুরু হয়। ২০১৭ সালে এই ব্যবসা করতে গিয়ে ধারণা আসে বড় একটি প্লাটফর্মের কথা। সেখান থেকে ইভ্যালির যাত্রা।

 

চাকরি ছেড়ে কেন উদ্যোক্তা হতে চাইলেন?

মোহাম্মদ রাসেল: বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই আমি উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পড়ালেখা শেষ করেই তার সাহস পাচ্ছিলাম না। এজন্য আমার দরকার ছিল বিজনেস প্ল্যান, বিজনেস সাপোর্ট, ট্রেডিং, ইমপোর্ট, এক্সপোর্ট, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, ব্যান্ডিং ইত্যাদি বিষয়ে অভিজ্ঞতা। সে কারণে ঢাকা ব্যাংকে ৬ বছর চাকরিতে ছিলাম। ব্যাংক থেকেই আমি সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। মূলত উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থেকে কয়েক বছর চাকরি করেছি। সেখানে আমার স্থায়ী হওয়ার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। তাই চাকরি ছেড়ে দিই।

 

কিন্তু অন্যভাবেও তো উদ্যোক্তা হতে পারতেন, ই-কমার্সে কেন?

মো. রাসেল: অনেক ব্যবসা আছে। যেগুলোর কোনও একটি ধরে করতে পারতাম। কিন্তু আমি বড় কিছু করার চিন্তা থেকে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠা করেছি। যার উদ্দেশ্যটাও অনেক বড়। ইভ্যালি কোনও বিশেষ পণ্যের বাজার না। এখানে সব ধরনের পণ্য পাবেন গ্রাহকরা। আমি মনে করি, বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসাকে বৈশ্বিক রূপ দিতে পারলে বা এ খাতের ব্যবসায় কিছু সমস্যা দূর করতে পারলে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত এই সম্ভাবনা থেকেই ইভ্যালির যাত্রা করেছি।

 

ইভ্যালি নামের রহস্য বলবেন

মো. রাসেল: আসলে রহস্য বলতে গেলে উদ্দেশ্যের কথাই আসে। আমরা চাচ্ছিলাম এশিয়া ভিত্তিক বা গ্লোবালি চিন্তা থেকে নামটা হোক। যেটা হবে একেবারেই ইউনিক। আমার সহধর্মিনী এক্ষেত্রে আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। যেমন আমাদের প্লানের মধ্যে আরও কয়েকটি ছিল ই-গ্যালাক্সি, ই-ওশেন, ই-স্কাই। মূলত ভ্যালি বা একটা জায়গা থেকে ইভ্যালি নাম।

 

ইভ্যালিকে কোথায় দেখতে চান?

মো. রাসেল: বড় স্বপ্ন, বড় লক্ষ্য নিয়ে বিজয়ের মাসেই ইভ্যালির যাত্রা হয়েছে। বিশ্বাস করি, ইভ্যালির বিজয় নিশ্চিত। আগামী কয়েক বছরে ইভ্যালিকে অ্যামাজন, আলিবাবার কাতারে নিয়ে যেতে চাই। আমি মনে করি, সেটা সম্ভব। আমাদের কোম্পানি এক সময় বিশ্বের শীর্ষ ১০ ই-কমার্স কোম্পানির মধ্যে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *