ইভ্যালির কার্যালয়ে মিলছে শুধু আশ্বাস, ফাঁদে পড়ে বেকায়দায় গ্রাহক

নজর২৪ ডেস্ক- গত জুলাই মাসে লকডাউনের সময় টি-১০ অফারে অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে একটি পালসার বাইক অর্ডার করেছিলেন নজরুল ইসলাম। ১০ দিনের মধ্যে সেটি সরবরাহ করার কথা ছিল; কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি বাইক সরবরাহ পাননি। অথচ জুন মাসে ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

প্রায় ৪০ দিন পর গতকাল রবিবার ইভ্যালির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এসে বুথে যোগাযোগ করলে নজরুলকে কাস্টমার কেয়ারে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘এখনো আমার পালসার বাইকটি ডেলিভারি করেনি। কাস্টমার কেয়ার থেকে বলল, শিগগিরই বাইকটি ডেলিভারি করা হবে।’

 

জাতীয় দৈনিক কালের কন্ঠে সোমবার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় কয়েক মাস ধরে আলোচনায় থাকা ইভ্যালির ধানমণ্ডির কার্যালয়টি গতকালই খুলেছে।

 

এর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের কথা বলে কার্যালয়টি বন্ধ রাখা হয়। ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৪ জুলাই একটি নীতিমালা জারি করে।

 

এতে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজধানীতে পাঁচ দিনের মধ্যে এবং অন্য শহরে ১০ দিনের মধ্যে গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে হবে। পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করবে। এ ছাড়া ইভ্যালির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের চার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

প্রতিষ্ঠান চারটি হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ইভ্যালির ওপর করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শন প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব চিঠি পাঠায়।

 

কিন্তু ইভ্যালি এখনো প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্যের অর্ডার নিচ্ছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির ধানমণ্ডির কার্যালয় খোলার পর সকাল থেকে গ্রাহকরা এসে সেখানে ভিড় জমান। তাঁদের জন্য বেশ কয়েকটি বুথ বসানো হয়েছিল।

 

একাধিক পাওনা গ্রাহক জানান, আগের মতো পণ্য খুব দ্রুত পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, কম্পানিটির দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তাঁরা পণ্য পাচ্ছেন না। গ্রাহকদের পণ্য দেওয়ায় মৌখিক আশ্বাস দিলেও বারবার সময় বাড়াচ্ছে ইভ্যালি। ইভ্যালির একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন যে ১০, সাত ও তিন দিন কিংবা ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি।

 

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদক গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কার্যালয়টির সামনে অবস্থান করেন। এ সময় প্রতিবেদকের সঙ্গে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কথা হয়। ইভ্যালিতে অর্ডার করেও পণ্য না পাওয়া গ্রাহকরা জানান, গতকাল আবারও কম্পানিটির কাস্টমার কেয়ার থেকে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁরা পণ্য পেয়ে যাবেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গৃহিণী ডিপ ফ্রিজ, গিফট কার্ডসহ প্রায় ৮০ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করেছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি এসব পণ্যের অর্ডার দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি অফার ছিল সাত দিনে পণ্য সরবরাহ করার। কিন্তু সেটিও তিনি পাননি। গতকাল ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এসে তিনি ধরনা দেন।

 

তিনি বলেন, কাস্টমার কেয়ার থেকে তাঁকে আরো কয়েক দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। সামনে হয়তো পণ্য পেয়ে যাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

কাস্টমার কেয়ার থেকে বের হয়ে নাম প্রকাশ না করে একজন গ্রাহক জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে একটি ফ্রিজ অর্ডার করেছিলেন। ৪৫ দিনের সময় পার হয়ে গেছে। এখনো ফ্রিজটি পাননি। তাঁকে কাস্টমার কেয়ার থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে অক্টোবরের মধ্যে পণ্যটি দেওয়া হবে।

 

আরেক গ্রাহক জানান, ১০ মার্চ পাঁচ লাখ টাকার একটি বাইক অর্ডার করেছিলেন। গতকাল তাঁকে কাস্টমার কেয়ার থেকে জানানো হয়, পণ্য পেতে সময় লাগবে আরো তিন মাস।

 

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ইভ্যালির কর্মীদের কাছে কম্পানিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য চান। তবে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া মেজবাহ উদ্দিন জানান, তিনি কম্পানির চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে পারবেন না।

 

পণ্য অর্ডার দিয়ে পাননি এমন কতজন গ্রাহক গতকাল বুথে এসেছেন জানতে চাইলে ইভ্যালির একাধিক কর্মী মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কিন্তু মেজবাহ উদ্দিন এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি। সূত্র- কালের কন্ঠ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *