এবার পরীমণিকে নিয়ে মুখ খুললেন নির্মাতা সোহান

বিনোদন ডেস্ক- মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে তৃতীয় দফায় রিমান্ড শেষে আজ (২১ আগস্ট) আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরীমনির ঘটনায় চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা শুরুতে নীরব থাকলেও এখন অনেকেই মন্তব্য করছেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংবাদ মাধ্যমে পরীমনির মুক্তির দাবি জোড়ালো হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় পরীমনি প্রসঙ্গে এবার কথা বলেছেন পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান।

 

চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিয়ে সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘একবার একটা শুটিং ইউনিট ঢাকার বাইরে গিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকার জন্য আটকে গিয়েছিল। তারা ঢাকায় ফিরতে পারছিল না। তখন পরীমণি পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে ওই ইউনিটকে ঢাকা ফিরিয়ে এনেছিল। এরকম বহু ঘটনা সে ঘটিয়েছে।’

 

অভিভাবক না থাকার কারণে পরীমণি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি বলে মনে করেন সোহান। তার ভাষ্য, ‘একমাত্র নানা ছাড়া পরীমণির অভিভাবক নেই। এ কারণে মেয়েটা আনব্যালেন্সড হয়ে গিয়েছিল। অথচ পরীমণি মানুষের বিপদে-আপদে কিন্তু হেল্প করে।’

 

এই নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী পরীমনির সঙ্গে যা ঘটেছে তাতে ‘বাড়াবাড়ি’ দেখছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মেয়ে হলে তাকে নিয়ে এত কিছু হতো না। পরীমণি যেহেতু শিল্পী, ভালো শিল্পী, সে কারণেই তাকে নিয়ে একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে শিল্পী কিন্তু তৈরি হয় না, শিল্পী গড গিফটেড। ফলে তাকে একেবারেই আমরা ফেলে দেব তা নয়। তার অপরাধ প্রমাণ হবে কিনা এখনও বলতে পারি না। প্রমাণিত হলে তখন আমরা বুঝব আমাদের কী বলা উচিত। এখন যেটা বলবো-পরীমণির বিষয়ে অনেক বেশি বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। এটি আরেকটু শোভনীয় হতে পারত।’

 

ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে পরীমণির সুযোগ পাওয়া উচিৎ বলেও মনে করেন সোহান। তার ভাষ্য, ‘সে তো আমাদের শিল্পী। পরী হয়তো অপরাধ করছে, তাকে বুঝিয়ে শোধরানোর সুযোগ দেয়া উচিত। শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি-আমরা সবাই তার পাশে দাঁড়াব। আজ যা হচ্ছে জনগণ সব ভুলে যাবে। নতুন করে পরীমণিকে খুঁজে পাবে তারা। কেননা পরীমনি জাত শিল্পী। ওর মতো শিল্পীর দরকার আছে।’

 

আরও পড়ুন-

অবশেষে পরীমণির পাশে দাঁড়ালেন অঞ্জনা, করলেন জামিনের আকুতি

 

বিনোদন ডেস্ক- দিন দশেক আগে হালের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জনা। যেদিন (৮ আগস্ট) মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার জেরে পরীমনি ও চিত্রনায়িকা সিমন হাসান একার সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

 

এদিন বিকালে এফডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরীমনির বিষয়ে অঞ্জনা বলেছিলেন, ‘সে ঘরের মধ্যে কী করলো সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। কিন্তু তার ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ বা কর্মকাণ্ড যদি জনসম্মুখে চলে আসে, তখনই শিল্পী সমিতির দেখার বিষয়। সমিতি সেটা সহ্য করবে না।’

 

এমন কড়া বার্তা দেওয়ার ১০ দিনের মাথায় এবার পরীমনির জামিনের জন্য প্রার্থনা করলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা। গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে নিজের জন্মদিনের আয়োজন করেন পরীমনি। সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন অঞ্জনাও। সেই অনুষ্ঠানে পরীমনির সঙ্গে তোলা একটি ছবি বুধবার সকালে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।

 

ওই ছবির ক্যাপশনে অঞ্জনা লেখেন, ‘আমরা কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নই। জীবনে চলার পথে সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকলে অবশ্যই জীবন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই ভুল পথে অতিবাহিত হয়।’

 

এরপর পরীমনির বিষয়ে অভিনেত্রী লেখেন, ‘পরিমনি একটা এতিম মেয়ে। শৈশব থেকে পারিবারিক মায়া মমতার কোনো স্পর্শ পায়নি। পারিবারিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। তাই হয়তো না বুঝেই অন্য পথে ধাবিত হয়েছিল তার জীবন। আরেকটি কথা বলতেই হয়, শিল্পী হিসেবে পরীমনি যথেষ্ট ভালো অভিনয় করে। সে দেখতেও অপূর্ব সুন্দরী।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ করতে অবশ্যই পরীমনির প্রয়োজন আছে। আমি আশা করি সবকিছু ছাপিয়ে সে ভবিষ্যতে অভিনয়ে মনোযোগী হবে। সর্বোপরি সবকিছু বিবেচনা করে একটা অসহায় মেয়ের সার্বিক সুদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা ভাবনা পর্যালোচনা মোতাবেক আমি এদেশের আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সম্মান প্রদর্শন করে শুধু একটি বিনীত অনুরোধ জানাবো, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে পরীমনির জামিন মঞ্জুরের আদেশ প্রদান করলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *