নিরপক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখেন, অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না : ভিপি নুর

নজর২৪, ঢাকা- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

 

শুক্রবার (২০ আগস্ট) দুপুরে আসিফ নজরুলকে হয়রানি ও হুমকির প্রতিবাদ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং আটক ছাত্র-যুব নেতাদের মুক্তির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাবেশে’ এ দাবি জানান তিনি।

 

সমাবেশে নুর বলেন, ‘শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে এই দুর্বৃত্তয়ানের আমলে অন্যায়, অবিচার দু:শাসন নিয়ে কথা বলছেন তিনি হচ্ছেন আসিফ নজরুল স্যার। তিনি যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা কি অবাস্তব কথা? সাহস থাকলে নিরপক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখেন, অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

 

তিনি বলেন, একজন শিক্ষক দুই লাইনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সহ্য করার ক্ষমতা নেই। সংবিধান যেখানে নাগরিকদের সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, সেখানে দুই লাইনের স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা, আবরারের হত্যাকারী, চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজরা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের কক্ষে তালা ঝুলিয়েছে।

 

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হোক নূর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চেয়ারম্যানের কক্ষে কীভাবে ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরা তালা লাগায়? আপনারা যদি ছাত্রলীগের এ দুর্বৃত্তদের প্রশ্রয় দেন, গণতন্ত্রকামী ছাত্র-শিক্ষক-জনতাকে হয়রানি করেন এর পরিণতি ভালো হবে না।

 

বিচার দাবি করে নুর বলেন, আসিফ নজরুল স্যারের লাঞ্ছনা ও অপমানের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং নাটকীয়তা বাদ দিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।

 

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘টাকা চুরি না করেও খালেদা জিয়াকে ১০ বছর জেল দিয়েছেন। কিন্তু আপনার আমলে যা হচ্ছে তার জন্য আপনার কী হয় জানি না।

 

‘আপনি কথা দিয়েছিলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন যারা করেছিল, সে ছাত্রদের নামে কোনো মামলা হবে না। অথচ তিন বছর ধরে সে মামলা ঝুলছে৷ আর নরেন্দ্র মোদীর আগমনের প্রতিবাদ করায় ৫৪ জন ছাত্রের এখনও জামিন হয়নি৷ শুধু জামিন না, সম্পূর্ণ মামলা প্রত্যাহার করা উচিত। তবেই আসিফ নজরুল যে ভয় করেছে, সে কাবুলের দৃশ্য দেখতে হবে না। নতুবা কাবুলে দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হওয়া আশ্চর্যের কিছু না।’

 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার স্ট্যাটাসে কারও নাম উল্লেখ না করলেও তারা বুঝে নিয়েছে তাদের উদ্দেশেই কথাটি বলা হয়েছে। অর্থাৎ চোরের মনে পুলিশ, পুলিশ। মানুষ বিজয় দেখতে চায়। কিন্তু শেখ হাসিনা সে বিজয় হতে দেন না। সমস্ত বিজয় নিজে গিলে খায়। যেটা আসিফ নজরুল লিখেছে তা প্রত্যেকটা মানুষের বুকে ব্যানার হয়ে ঝুলছে।’

 

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আফগানিস্তানের দৃশ্যে যেন নিজেদের ভবিষ্যত দেখেছে। তা না হলে কেনো তারা আসিফ নজরুলের উপর উঠেপড়ে লেগেছে?

 

‘দুই লাইনের এই স্ট্যাটাসের কারণে সরকারের পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠেছে। বর্তমান সরকারেরও এই পরিণতি হবে। তখন তাদের প্লেনের চাকা ধরে দেশ থেকে পালাতে হবে।’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনি ভালো করেই জানেন জনগণের আন্দোলন শুরু হলে আপনার ওই মসনদ থাকবে না। আসিফ নজরুল তার স্ট্যাটাসে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

 

‘আমরা তালেবানের আদর্শে বিশ্বাসী নই, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু আপনি যদি গণতন্ত্র কেড়ে নেন, সুষ্ঠু নির্বাচন না দেন তাহলে জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনার সরকারের পরিবর্তন হবে, ইনশাআল্লাহ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *