নজর২৪ ডেস্ক- ‘ছোট গর্তের মধ্যে একটা মাছ ছোট থেকে বড় হলে সেই মাছটি যদি পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে মাছটি অনেক জোরে জোরে দৌড়ায়। মাছটিকে নদীতে ফেললে দৌড়াতে দৌড়াতে হয়রান হয়ে কানটা উঁচু করে শ্বাস নিতে থাকে। ওর (পরীমণি) এই অবস্থা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এতকিছু হয়ে যাওয়াতে বোধহয় নিজেকে সামলাতে পারেনি।’
মাদক মামলায় আটক চিত্রনায়িকা পরীমণি সম্পর্কে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু।
তিনি জানান, ‘এক হাতে তালি বাজে না। তবে প্রথম দোষটা আমি ওকেই (পরীমণি) দিবো। তুমি এক্সেপ্ট করো কেন তাকে? তুমি রাত ১২টা সময় কেন যাবা? কেন মদ খাবা? যারা আসছে তারাও খারাপ, যার কাছে আসছে সেও খারাপ।’
নায়িকা হিসাবে রাতারাতি তারকা বনে যান পরীমণি। অঢেল টাকা আর অভিজাত জীবন যেন স্বেচ্ছায় ধরা দেয় তার হাতে। দামি গাড়ি, কোটি টাকার ফ্ল্যাট, মূল্যবান অলঙ্কার কি নেই তার? অথচ তার সমসাময়িক নায়িকাদের অনেকে বাসা ভাড়া দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বলেন, ‘পরীমণি যত বছর ধরে চলচ্চিত্রে আছে সে অনুযায়ী যে বাড়ি, গাড়ি, টাকা-পয়সা, ৪-৫টা করে গরু জবাই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তো এত টাকা আসার কথা না। এগুলো কোথায় থেকে এসেছে, মানুষ তো প্রশ্ন করবেই। দোষটা তারই।’
উল্লেখ্য, মাদক মামলায় ১৩ আগস্ট পরীমণি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওইদিন প্রিজনভ্যানে করে পরীমণিকে সন্ধ্যা ৭টায় গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। এখন তিনি সেখানে আছেন।
কারাসূত্র জানায়, নায়িকা পরীমণিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে (রজনীগন্ধা ভবন) রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত হননি তাই কোয়ারেন্টাইন সময় পার হওয়ার পর তাকে অন্য বিচারাধীন সাধারণ বন্দির সঙ্গেই রাখা হবে।
১০ আগস্ট পরীমণি ও আশরাফুল ইসলাম দীপুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস। এর আগে ৫ আগস্ট পরীমণি ও দীপুর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ।
তার আগে গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমণি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র্যাব। পরীমণির বাসা থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। আটকের পর তাদের নেওয়া হয় র্যাবের সদরদফতরে। সেখানেই রাত কাটাতে হয়। ৫ আগস্ট র্যাব-১ বাদী হয়ে মাদক আইনে পরীমণি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে। সেদিনই তাদের আদালতে নেওয়া হয়।
