পরীমনি ইস্যুতে ১০ দিন পর কেন মুখ খুললেন শাকিব খান?

নজর২৪ ডেস্ক- চিত্রনায়িকা পরীমনির ইস্যুতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা হয়ে আসছে। পরী আটক হওয়ার পর তাকে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি সমিতির। বরং দুদিন পর জরুরি মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় পরীমনির সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ে।

 

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তের কথা জানায় শিল্পী সমিতি। সেখানে পরীমনির পাশাপাশি মাদকসহ আটক হওয়া চলচ্চিত্র নায়িকা একার ব্যাপারেও একই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

 

এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীমনির অনুসারীদের পাশাপাশি শোবিজের অনেকেই শিল্পী সমিতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। চলতে থাকে সমালোচনা।

 

এদিকে পরীমনি আটক হওয়ার ১০দিন পর শনিবার (১৪ আগস্ট) মুখ খুলেন শাকিব খান। তিনি পরী ইস্যুতে সমিতির আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

 

এদিকে পরীর পক্ষে সাফাই গাইলেও শাকিবকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। পরী আটক হয়েছে ৪ আগস্ট। আর শাকিব তার অভিমত জানিয়েছেন ১৪ আগস্ট। মাঝে ১০ দিন কেন চুপ ছিলেন এই অভিনেতা? শীর্ষ নায়ক হিসেবেও তার একটা বিবৃতি দেয়া প্রয়োজন ছিলো বলে মনে করছেন অনেকেই।

 

নেটিজেনরা বলছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিশিষ্ঠ নাগরিকেরা পরীমণির মুক্তির বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এরপরে হাওয়া একটু ঘুরতে থাকে, শাকিব অনুকূল আবহাওয়ায় বিদ্রোহীর মতো পোস্ট দিলেন। যেন খুব শুভাকাঙ্ক্ষী।’

 

পরীমণির ইস্যুতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আচরণে হতবাক ও বিস্মিত হয়ে শাকিব লিখেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে খেয়াল করছি শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরীমণি গ্রেফতারের পর তার প্রতি কোনো ধরণের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মুহূর্তে পরীমণির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিঁটে! সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সাথে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?’

 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘বিগত দিনেও একাধিক সিনিয়র শিল্পী এর চেয়েও ভয়ঙ্কর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার শিল্পী সমিতি অভিযুক্ত সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করেনি। বরং পাশে ছিল, রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু এখনকার শিল্পী সমিতির এসব আচারণ বিতর্কিত। আবারও বোঝা গেল, এই শিল্পী সমিতি সবাইকে এক করতে পারেনি, বরং বিচ্ছিন্ন করেছে। বিভেদ তৈরি করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ নষ্ট করেছে। হয়তো এজন্য চলচ্চিত্রের আজ এই দুর্দশা।’

 

শাকিব খানের অভিযোগের বিষয়ে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ওটা তিনি দিতেই পারেন। তার অভিমত সে ব্যক্ত করেছে, করুক। এটা নিয়ে কিছু বলার নেই।

 

তবে শাকিবের এই বক্তব্যকে জায়েদ ডাক্তার আসার আগেই রোগী মারা যাওয়ার মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ পরীমনির জামিন নামঞ্জুর হয়ে তিনি যখন কারাগারে তখন শাকিব বিবৃতি দিয়েছেন।

 

এদিকে শাকিবের স্ট্যাটাসটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। এর পক্ষে বিপক্ষে হচ্ছে নানা রকম আলোচনা। কেউ দাবি করছেন শাকিব যোগ্য সহশিল্পী হিসেবে পরীমনিকে নিয়ে কথা বলেছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন, সহকর্মী পরীমনিকে নিয়ে একটা বিবৃতি দিতে শাকিবের ১০ দিন লেগে গেলে কেন?

 

শিল্পী সমিতির সিদ্ধান্তে শাকিবের যে খারাপ লাগা সেটাও প্রকাশ করেছেন তিনি এক সপ্তাহ পর!

 

অথচ পরীমনি ছিলেন শাকিব খানেরও দুই সিনেমার নায়িকা। তারা জুটি হয়েছেন ‘ধুমকেতু’ ও ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ নামের দুই সিনেমায়। নিজের নায়িকার এহেন পরিস্থিতিতে শাকিবের এতোদিন চুপ থাকায় হতবাক হয়েছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *