করোনায় বয়স পার! সুখবর আসছে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য

নজর২৪ ডেস্ক- করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় আকারে বয়স ছাড়ের চিন্তা করছে সরকার। গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে চলতি বছরের পুরোটাই, অর্থাৎ ২১ মাস এই ছাড়ের আওতায় রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে সরকারপ্রধানের সম্মতির পর।

 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর। নিয়োগ স্থগিত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে করোনাকালীন পরিস্থিতি শুরুর দিন থেকে চলতি বছরের শেষ মাস পর্যন্ত (২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত) ছাড় দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খসড়া প্রণয়ন করা হতে পারে।

 

জানা গেছে, গত বছরের ২৫ মার্চের পর থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে যাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ ছাড়িয়ে গেছে বা যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে বয়সসীমার এই ছাড় দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে বয়স ছাড়ের আওতায় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকছে না। কারণ, করোনাকালেও বিসিএসের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

 

বয়সসীমা ছাড় সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের সার-সংক্ষেপ তৈরি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সোমবার (৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হতে পারে।

 

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন রোববার (৮ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে শুরু করে সামনের যেকোনো একটি মাস পর্যন্ত সীমারেখা বেঁধে দেওয়ার চিন্তা চলছে। এই সীমা কত মাস হবে, সেটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি সাপেক্ষে এটি কার্যকর হলে চাকরিপ্রার্থীরা করোনাকালীন ২১ মাস বয়সের ছাড় পেতে পারেন।’

 

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের।

 

করোনা মহামারির প্রথম দফায় সাধারণ ছুটির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেয় সরকার। তখন গত ২৫ মার্চ যাদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছিল তাদের পরবর্তী পাঁচ মাস অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু গত এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন চলছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ কিংবা সংস্থাগুলো চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে পারছে না।

 

করোনাভাইরাস মহামারি দেশের বেকারত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কয়েক লাখ চাকরিপ্রার্থীর ন্যূনতম বয়স লকডাউনের মধ্যে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের বয়স বাড়ানোর আন্দোলন করা সংগঠনগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *