নজর২৪ ডেস্ক- অনলাইন ভিত্তিক পণ্য কেনা-বেচার প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যত নির্ধারণে ৯ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষকে করে প্রধান করে গঠিত কমিটি আগামী ১১ আগস্ট বৈঠক করে ইভ্যালির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। খবর- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের
কমিটির সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান রোববার বলেন, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি ১৫ জুলাই পর্যন্ত কতো টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কতো টাকা পরিশোধ করেছে এবং গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার পরিমাণ ও তা পরিশোধে ইভ্যালির পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কোম্পানিটি সেসব তথ্য জানায়নি। কোম্পানিটি এসব তথ্য জানাতে ৬ মাস সময় চেয়েছে।
‘ইভ্যালির প্রস্তাব অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের জন্য তাদেরকে সময় দেওয়া হবে কি-না, এবং সময় না দিয়ে অন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেসব বিষয় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে’- জানান হাফিজুর রহমান।
গত জুন মাসে ইভ্যালির আর্থিক অনিয়ম নিয়ে এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ১৪ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহ করেনি। আবার মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দেনার পরিমাণ ১৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ইভ্যালির চলতি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ইভ্যালির পুরো সম্পদ দিয়ে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার মাত্র ১৬% পরিশোধ করা সম্ভব।
এসব তথ্য ইভ্যালিই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সরবরাহ করেছে জানিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইভ্যালির প্রকৃত দায়-দেনার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। কারণ, ইভ্যালির দেওয়া এসব তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে কোম্পানিটির রেপ্লিকা ডাটাবেইজে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে কতো টাকা নিয়েছে, কতো টাকার পণ্য গ্রাহকদের ডেলিভারি করেছে, মার্চেন্টদের কতো টাকা পরিশোধ করেছে এবং গ্রাহক ও মার্চেন্টদের বকেয়া পরিশোধের পরিকল্পনা ১ আগস্টের মধ্যে জানাতে কোম্পানিটিকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
গত ১ আগস্ট ইভ্যালি ফিরতি চিঠি দিয়ে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য না দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬ মাস সময় চেয়েছে।
গত ২ আগস্ট ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল সম্প্রতি বলেছিলেন, আমরা এক্সটার্নাল অডিটর নিয়োগ দিয়ে কোম্পানির ভ্যালুয়েশনসহ দায়-দেনা নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছি। অডিটেড রিপোর্ট অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। সেজন্য ৬ মাস সময় চেয়েছি।
আরও পড়ুন-
ইভ্যালিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা গ্রুপ
নজর২৪, ঢাকা- দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ যমুনা গ্রুপ।
প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এ শিল্প গ্রুপ। বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইভ্যালির পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যমুনা গ্রুপ থেকেও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির মূল বাজার দর (ভ্যালুয়শন) প্রকাশ করেনি কোনো পক্ষ।
এ বিষয়ে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসেবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এই বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং ব্যবসার পরিধি বাড়াতে ব্যয় করা হবে।
গ্রাহকদের পুরোনো অর্ডার ডেলিভারি নিয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, পুরোনো অর্ডার যেগুলো পেন্ডিং সেগুলোর ডেলিভারির ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, প্রয়োজনে আমরা আরও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করব।
বিনিয়োগের বিষয়ে যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা দেখেছি, স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অ্যামাজন, চীনের ক্ষেত্রে আলিবাবা। তেমনি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছে দেশীয় ইকমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি। শুধু দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে তারা। যমুনা গ্রুপ দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এখন থেকে ইভ্যালি এবং যমুনা গ্রুপ সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণে একে অপরের অংশীদার হলো।
ইভ্যালি ও যমুনা গ্রুপের এই অংশীদারিত্বের বিষয়ে যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মনিকা ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা নিয়ে যমুনা গ্রুপ ব্যবসা করে আসছে। বাংলাদেশে সব থেকে বড় অফলাইন মার্কেটপ্লেস যমুনা ফিউচার পার্ক। আর এখন সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলার জন্য ইভ্যালির সাথে থাকবে যমুনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং দেশের ই-কমার্স খাতকে একটা মজবুত অবস্থানে নিয়ে যেতে ইভ্যালির সৎ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের প্রতি বিশ্বাস রেখে তাদের দুঃসময়ে আমরা পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।
