নজর২৪ ডেস্ক- বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য কম টাকায় ফ্ল্যাটে থাকার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ১০ হাজার বহুতল ভবন নির্মাণ করবে সরকার। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বহুতল ভবনের এসব নতুন ফ্ল্যাটে মাসে মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকবেন বস্তিবাসীরা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বস্তিবাসীদের জন্য ৩০০ ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত বস্তিবাসীদের জন্য ৩০০ ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০১৭ সালে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৭ সালেন ২৬ অক্টোবর এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে এ প্রকল্পে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬৭৩ বর্গফুট। প্রতিদিন ১৫০ টাকা কিংবা সপ্তাহে এক হাজার ৫০ টাকা করে ফ্ল্যাটের ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।
মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীর জন্য সর্বমোট ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মিত হচ্ছে। মঙ্গলবার ৩০০ পরিবারের হাতে বরাদ্দপত্র দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১ হাজার একটি পরিবারকে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। ধাপে ধাপে ওই বস্তিতে থাকা মোট ১০ হাজার বস্তিবাসী এ ফ্ল্যাট পাবেন।
প্রতিটি ভবনে থাকছে কমিউনিটি হল, দুটি লিফট ও প্রশস্ত সিড়ি। এ ছাড়াও রয়েছে অগ্নিনির্বাপণ ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৪০ কেভিএ জেনারেটর ও ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন সুবিধা।
এছাড়াও আজ উদ্বোধন করা হবে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ২ হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট। এ প্রকল্পের অধীনে ছয় বিঘা জমির ওপর ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ তলার পাঁচটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এখানকার ফ্ল্যাটগুলো দুই কক্ষবিশিষ্ট এবং আয়তন ৬৭৩ থেকে ৭২০ বর্গফুট।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানীর মতিঝিল, আজিমপুর, মিরপুর, মালিবাগ ও তেজগাঁও এলাকায় পাঁচটি আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্পের অধীনে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ১৭টি ২০ তলা ভবনে এক হাজার ২৯২টি, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২৮৮টি, মালিবাগে চারটি ২০ তলা ভবনে ৪৫৬টি এবং মতিঝিলে পাঁচটি ২০ তলা ভবনে ৩৮০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আটতলার দুটি আবাসিক ভবন। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে পাঁচটি ভবনের তিনটি মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এ পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি ফ্ল্যাট আছে। এখান থেকে ৩০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১০০০ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হবে। এ প্রজেক্টে মোট ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করে বস্তিবাসীকে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যেসব বস্তিবাসীকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল তাদেরকেই ফ্ল্যাট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। বস্তিবাসীদের মাঝে জরিপ করে দেখা হয়েছে, দুই রুমের টিনশেড বাসায় ৪৫০০ টাকা ভাড়া দেয়। তাই মন্ত্রণালয় থেকে ৪৫০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ভাড়া দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।
