১৭ বছরে এক ওয়াক্তও নামাজ বাদ দেননি পুলিশ কর্মকর্তা

নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধার করে শুক্রবার বিকেলে মর্গে আনা হয়। ঢামেক মর্গে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে লাশ নিয়ে আসার আগে থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট যেখানে করা হয় সেখানে কেউবা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকও ছুটে আসেন।

 

চারদিকে আহাজারি, হৈচৈ ও হট্টগোল পরিবেশের মধ্যে বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে এ প্রতিবেদকের চোখ পড়ে মর্গের চৌহদ্দিতে সুরতহাল কক্ষের লম্বা বেঞ্চিতে বসে নামাজরত একজন পুলিশ সদস্যদের দিকে।

 

৩০ জন পুলিশ সদস্য সেখানে বসে থাকলেও কারও মুখে কোনো কথা নেই, সবাই চুপচাপ বসে আছে। নামাজ শেষ করেই ওই পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে থাকা কারও কাছে রূপগঞ্জের ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলেন ও কিছু দিকনির্দেশনা দিলেন।

 

একটু ভালো করে খেয়াল করতেই তার পোশাক ও র্যাংক ব্যাচ দেখে বোঝা গেল তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদমর্যাদার (ওসি)। একটু সামনে গিয়ে এ প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে তার পরিচয় জানতে চাইলেন।

 

এহেন পরিস্থিতিতেও নামাজরত অবস্থায় তাকে দেখে ভালো লাগলো এ কথা বলতেই তিনি কিছুটা ‘বিব্রত’ হলেন। জানালেন তিনি রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত), নাম হুমায়ুন আহমেদ। অগ্নিকাণ্ডের কারণে গতকাল থেকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

 

আলাপকালে তিনি জানান, পুলিশের চাকরি করি, কখন কোথায় যাই তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয় বলে বাসায় গিয়ে নামাজ পড়ার সময় হয় না। তাই ডিউটিরত কিংবা অন্যকোনো কাজে যেখানেই থাকেন না কেন, ওয়াক্ত হলে সেখানেই নামাজ পড়ে নেন। ১৭ বছরে এক ওয়াক্তও নামাজ বাদ দেননি তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *