নজর২৪ ডেস্ক- কঠোর লকডাউন বা শাটডাউনের মধ্যে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকরা।
তারা বলেছেন, সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তারা জানতে পেরেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খোলা রাখা যাবে। সে অনুযায়ীই তারা কারখানা খোলা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম শনিবার দুপুরে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, যথাযথ স্বাস্থবিধি মেনে পোশাক কারখানা খোলা রাখা যাবে। আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের একটা বৈঠক আছে। সেই বৈঠকে বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে। সে অনুযায়ী আমরা কারখানা খোলা রাখবো।’
পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানও একই কথা বলেছেন, ‘আমরা সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আলোচনা করছি। এখন পর্যন্ত যতটা আভাস পেয়েছি, আমাদের পোশাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেবে সরকার। সন্ধ্যার বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেছিলেন, ‘এখন যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানাগুলো খোলা রেখে উৎপাদন হচ্ছে, ঠিক সেভাবেই আমরা চালাতে চাই। তবে সরকার যদি বন্ধ রাখতে বলে অবশ্যই বন্ধ রাখব। দেশের এই সঙ্কটের সময়ে আমরা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে চাই।’
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী সোমবার (২৮ জুন) থেকে পরবর্তী সাত দিনের জন্য সারাদেশে কঠোর লকডাউন পালিত হবে। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার (২৫ জুন) বিকালে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লকডাউন প্রসঙ্গে প্রধান তথ্য অফিসার বলেন, লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যান ব্যতীত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল করতে পারবে।
জরুরি কারণ ছাড়া বাড়ির বাইরে কেউ বের হতে পারবেন না। গণমাধ্যম লকডাউনের আওতার বাইরে থাকবে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আগামী এক সপ্তাহের জন্য আমরা কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) দেব, প্রয়োজন হলে আমরা সেটি আরও বাড়াব। এটি যাতে কঠোরভাবে প্রতিপালন হয় সেজন্য মাঠে পুলিশ ও বিজিবি থাকবে। এক সপ্তাহের জন্য সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থাকার সম্ভাবনা আছে।
