তারেকের নেতৃত্বে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি, হতাশ নেতাকর্মীরা

নজর২৪ ডেস্ক- খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বা দলের শীর্ষ নেতার পদে আছেন তারেক রহমান। কিন্তু দলে এখনো তাঁর নেতৃত্ব দৃঢ় হয়নি। দলের বড় একটি অংশে তারেক রহমানের একক কর্তৃত্ব এবং অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি রয়েছে। বিদেশি একাধিক মহলেও তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে বলে আলোচনা আছে।

 

বিএনপির রাজনীতির বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন—এমন ব্যক্তিরা বলছেন, মা খালেদা জিয়ার অবর্তমানে রাজনীতিতে তারেক রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জ দুটি। তা হলো নিজ দল বিএনপিতে এবং ক্ষমতার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দেশি-বিদেশি মহলে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি। এ দুটি চ্যালেঞ্জে সফল বা বিফলের মধ্যেই বিএনপির ভাগ্য জড়িয়ে আছে।

 

যদিও বিএনপির নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী মহল দলের ভেতরের চেয়ে বাইরের চ্যালেঞ্জকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ, দেশি–বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ মহলে তারেক রহমানের ব্যাপারে অগ্রহণযোগ্যতা কাটেনি। ফলে ক্ষমতার রাজনীতিতে বিএনপি আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।

 

এ পরিস্থিতিতে দিনে দিনে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। যদিও গত সাড়ে তিন বছরে তারেক রহমান দলে অনেকটাই নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইতিমধ্যে নিজের পছন্দমতো অনেক জেলা কমিটি গঠন করেছেন। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও দিয়েছেন।

 

‘লোকাল কমান্ডার’
তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এক ভার্চ্যুয়াল সভায় দল পরিচালনায় ‘লোকাল কমান্ডার’ ঠিক করার প্রস্তাব করেছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। কারণ, দলের এই পুরোনো নেতার মনে হয়েছে, লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দল পরিচালনা করায় কিছু অসুবিধা হচ্ছে। এটা কাটাতে দেশে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা দরকার।

 

দলীয় সূত্র জানায়, মুন্সীর ‘লোকাল কমান্ডার’ ঠিক করার প্রস্তাবের ফল ভালো হয়নি। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটে এলাকার রাজনীতিতে। মুন্সীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দ্রুত তুলে আনা হয় অপেক্ষাকৃত তরুণ আবদুল আউয়ালকে (সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান)। তাঁকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদকও করা হয়েছিল।

 

এ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় পটুয়াখালীতে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নোয়াখালী–১ আসনে (চাটখিল–সোনাইমুড়ী) দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, ভোলায় কেন্দ্রীয় নেতা নাজিমউদ্দিন আলমসহ অনেক নেতা চাপে আছেন। কোথাও ছাত্রদল, কোথাও যুবদলের নেতাদের দিয়ে এলাকায় বিকল্প নেতৃত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। আবার দলের জ্যেষ্ঠ ও পুরোনো নেতাদের অনেককে তারেক রহমান পছন্দ করেন না। কারণ, তিনি তাঁদের নিজের লোক মনে করেন না।

 

অবশ্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের মতের অমিল সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যাঁরা বেগম জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন বা তারও আগে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছেন, স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বটাকে চট করে মেনে নিতে তাঁদের হয়তো একটু দ্বিধা হয়েছে। এখন নেতৃত্ব নিয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। বরং এখন আমরা দলে একটা যৌথ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি।’

 

এ বিষয়ে বিএনপির শুভাকাঙক্ষী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিএনপি অযৌক্তিক ধারণা নিয়ে বসে আছে। তারা না আছে মাঠে, না আছে তাদের কোনো কৌশল। ওদের মস্তিষ্ক স্থবির হয়ে গেছে। এরা কোনো চেষ্টাই করছে না। এমনকি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নেও। তারেক রহমান মনে করেন, কেউ না কেউ তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *