আসছে করোনার আরেক ঢেউ! কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ

নজর২৪ ডেস্ক- দেশে করোনা সংক্রমণের ৬8তম সপ্তাহ শুরু হয়েছে গতকাল (২০ জুন রোববার) থেকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে (১৩-১৯ জুন) দেশে আগের সপ্তাহের (৬-১২ জুন) তুলনায় করোনার নমুনা পরীক্ষা, নতুন রোগী শনাক্ত, মৃত্যু এবং সুস্থতার হার সবগুলিই বেড়েছে। খবর- পার্স টুডের

 

করোনার সাপ্তাহিক সংক্রমণ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে- দেশে বিগত এক সপ্তাহে (১৩-১৯ জুন) রোগী শনাক্ত বেড়েছে ৫৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর মৃত্যুর বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ সপ্তাহে করোনার নমুনা পরীক্ষাও ২২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। আগের সপ্তাহে যেখানে ঢাকায় দৈনিক শনাক্তের হার ছিল ৫ শতাংশ, তা গতকাল(১৯ জুন) পাওয়া গেছে ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

 

নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার করোনার সংক্রমণ শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশেই বেড়েছে। বর্তমানে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে খুলনা বিভাগে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে এখন সংক্রমণ বাড়ছে ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে। বাংলাদেশে করোনার ডেল্টা বা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় গত ৮ মে। এর পর থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম দিকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বেশি ছড়ালেও বর্তমানে সারাদেশেই তা ছড়িয়ে পড়ছে।

 

সম্প্রতি ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)’র গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ঢাকায় করোনা রোগী শনাক্তের ৬৮ শতাংশই হচ্ছে ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমিত। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঢাকায় করোনা ভাইরাসের আরেকটি ঢেউ আঘাত হানতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পর এখন রাজধানী ঢাকায় যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি গত মার্চ-এপ্রিলের মতো হতে পারে। মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনা ভাইরাসে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল রাজধানীর স্বাস্থ্যব্যবস্থা। তখন করোনা রোগীদের হাসপাতালে ঠাঁই পাওয়াটাও দুষ্কর হয়ে পড়ে।

 

এ প্রসঙ্গে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্লাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ এর সদস্য সচিব প্রফেসর ডাক্তার শাকিল আখতার বলেছেন, করোনা সংক্রমনের বিস্তার ঠেকানোর উপায় হচ্ছে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা আর প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ। যেহেতু সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করা যায়নি; সেহেতু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া কোন বিকল্প ​নেই। ঝুঁকিপুর্ণ আগামী সপ্তাহ গুলিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে গণচলাচল ও কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

 

অনুরূপ মতামত ব্যক্ত করেছেন ডক্টরস ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র ডাক্তার নিরুপম দাশ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে মানুষের গ্রামমুখী যাতায়াত এবং কোরবানির হাট নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বাংলাদেশেও করোনা পরিস্থিতি ভারতের মত ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *